নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদ কেন্দ্রে নজর ছিল সকলের। কারণ লোকসভা কেন্দ্রের অযোধ্যায় রয়েছে রামমন্দির। যে মন্দির নির্মাণ ভারতের ইতিহাসের অন্যতম ঐতিহাসিক ঘটনার একটি।
অযোধ্যায় বিজেপির এমন ভরাডুবির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় রয়েছে ফৈজাবাদ। রামনগরীতে বিজেপির হারের পর এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডেলে ‘সোনু নিগাম’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্টে লেখা হয়, ‘যে সরকার অযোধ্যাকে পুরো নতুনের মতো করে দিল, বিমানবন্দর থেকে রেলস্টেশন সব জায়গাতে উন্নয়নের জোয়ার আনল, প্রায় ৫০০ বছর পর রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করল, সেই অযোধ্যায় না কি জিততে পারল না বিজেপি।’ মুহূতের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সেই পোস্ট। সোনু নিগাম নামটা দেখে অনেকেই ভুল করে বসেন। তারা ভেবে নেন, এটা সংগীতশিল্পী সোনু নিগামের পোস্ট। তবে যিনি পোস্ট দিয়েছেন তিনি গায়ক সোনু নিগাম নয়। ইনি সোনু নিগম সিংহ। উত্তরপ্রদেশের নাগরিক। তার নামের শেষের ‘সিং’ অধিকাংশেরই নজরে পড়েনি। যে কারণেই বিপাকে পড়েন সংগীতশিল্পী। নানা কটুকথা ও কটাক্ষ শুনতে হয় তাকে। কারণ অযোধ্যায় রামমন্দিন প্রতিষ্ঠার সময় এই গায়কও উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত জানুয়ারিতে অযোধ্যায় ১ হাজার ৮০০ কোটি রূপি খরচ করে তৈরি করা রামমন্দিরটি উদ্বোধন করেন।
এই অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির দাবি তুলে ১৯৯০ সালে জাতীয় রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির দল বিজেপির উত্থান হয়।
যেখানে মন্দিরটি তৈরি করা হয়েছে সেটির জায়গা নিয়ে হিন্দু আর মুসলমানদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিবাদ চলে আসছিল। এরপর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালে দেওয়া এক রায়ে জমিটির মালিকানা হিন্দুদের দিয়ে দেয়। যদিও সর্বোচ্চ আদালত এটাও স্পষ্ট করে বলেছিল যে মসজিদ ধ্বংস করাটা ছিল ‘আইনের শাসনের জঘন্য লঙ্ঘন।’ মসজিদ বানানোর জন্য মুসলমানদের অযোধ্যাতেই অন্য একটি জমিও দেয় আদালত।