সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০২:০০ পূর্বাহ্ন

অস্ট্রেলিয়ার কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
আপডেট : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় অসিদের কাছে ৭ উইকেটে হারে টাইগাররা। সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি যথাক্রমে- ৪ উইকেটে ও ৭ রানে হেরেছিলো বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টির আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছে টাইগাররা। নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে অষ্টমবার তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ। এর আগে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে দুইবার করে এবং আফগানিস্তান-ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে একবার করে হোয়াইটওয়াশ হয় টাইগাররা।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। পাঁচ ওভারে ১১ রান তুলতেই ৩ উইকেট হারায় টাইগাররা। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ৫ ও সাইফ হাসান ১ রানে ফিরেন। তিন নম্বরে নেমে ১৩ বল খেলে ১ রানের বেশি করতে পারেননি পারভেজ হোসেন ইমন।

চতুর্থ উইকেটে জুটি বেঁধে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠার চেষ্টা করেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও নুরুল হাসান। ১৪ বলে ২৩ রান যোগ করে ইনিংসের সপ্তম ওভারে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৬ রান করে অসি স্পিনার এডাম জাম্পার বলে বোল্ড হন নুরুল।

নুরুলের বিদায়ে ক্রিজে এসে রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরেন শামীম হোসেন। ৫ বল খেলে পেসার স্পেনসার জনসনের দ্বিতীয় শিকার হন তিনি। ৩৬ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ।

এ অবস্থায় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন হৃদয় ও রিশাদ হোসেন। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে উইকেট থিতু হয়েছিলেন তারা। কিন্তু ২০ বলে ২৬ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি হৃদয়-রিশাদ। ১টি করে চার-ছক্কায় ১৪ বলে ১৬ রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার স্পিনার নিখিল চৌধুরি বলে আউট হন রিশাদ। আট নম্বরে নেমে নাসুম আহমেদও রানের খাতা খুলতে পারেননি।

অষ্টম উইকেটে শরিফুলকে নিয়ে ২১ রান যোগ করেন হৃদয়। ১৪ বলে ৭ রান করেন শরিফুল। ৮৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে ১শর নীচে গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় পড়ে বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি হতে দেননি হৃদয়।

নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ১৭ বলে ২৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলের রান ১শ পার করেন হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১০৯ রানের মামুলি সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

সতীর্থদের যাওয়া আসার মাঝে এক প্রান্ত আগলে ৪১ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন হৃদয়। ৫১ বল খেলে ৩টি করে চার-ছক্কায় ৬১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি।

শেষ উইকেটে হৃদয়ের সাথে ২ রান অবদান রেখে অপরাজিত থাকেন তাসকিন।

অস্ট্রেলিয়ার জনসন-এলিস ও জাম্পা ২টি করে উইকেট নেন।

১১০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটের বিনিময়ে ৫৪ রান তুলে অস্ট্রেলিয়া। ষষ্ঠ ওভারের পঞ্চম বলে অসিদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন বাংলাদেশ স্পিনার নাসুম আহমেদ। ১৭ রান করা জশ ইংলিশকে শিকার করেন নাসুম।

অন্যপ্রান্তে মারমুখী মেজাজে ২৩ বলে টি-টোয়েন্টিতে ১৪তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ। ২৮ বলে ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬০ রান করে বাংলাদেশ পেসার শরিফুলের বলে আউট হন মার্শ।

মার্শের পর কুপার কনোলিকে ১৫ রানে বিদায় দেন বাংলাদেশ স্পিনার রিশাদ। ১০০ রানে ৩ উইকেট পতনের পর চতুর্থ উইকেটে ৩ বলে ১২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৯ ওভার বাকী থাকতে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। রেনশ ৬ ও ডেভিড ১২ রানে অপরাজিত থাকেন।

বাংলাদেশের শরিফুল-নাসুম ও রিশাদ ১টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন মার্শ। সিরিজ সেরার স্বীকৃতি পান রেনশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

বাংলাদেশ : ১০৯/৮, ২০ ওভার (হৃদয় ৬১*, রিশাদ ১৬, জনসন ২/৬)।

অস্ট্রেলিয়া : ১১২/৩, ১১ ওভার (মার্শ ৬০, ইংলিশ ১৭, নাসুম ১/১০)।

ফল : অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : মিচেল মার্শ (অস্ট্রেলিয়া)।

সিরিজ সেরা : ম্যাট রেনশ (অস্ট্রেলিয়া)।

সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতল অস্ট্রেলিয়া।


এই বিভাগের আরো খবর