অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক (পিএ)-কে গ্রেফতার করল সিআইডি। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। সুমিতকে নিয়ে ভবানী ভবনের উদ্দেশে রওনা দেন সিআইডি আধিকারিকেরা। সেখান থেকে স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। বৃহস্পতিবারই সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে তাঁর রক্ষাকবচ খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের রায় প্রকাশ্যে আসার পরেই অভিষেকের বাড়িতে পৌঁছে যায় সিআইডি। সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। অভিষেক অবশ্য এখন চিকিৎসার কারণে বিদেশে রয়েছেন।
সিআইডি আধিকারিকেরা কালীঘাটের বাড়িতে যেতেই সেখানে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় পুলিশের। কিছুক্ষণের বাগ্বিতণ্ডার পর গেট খুলে ভিতরে ঢোকেন সিআইডি আধিকারিকেরা। গেট খুলতেই দেখা যায় সুমিতকে। তাঁর পরনে ছিল সাদা ফুল শার্ট, কালো ট্রাউজ়ার্স। সঙ্গে সঙ্গে অভিষেকের আপ্তসহায়ককে ঘিরে ফেলে পুলিশ। তার পর তাঁকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলা হয়। শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হল তাঁকে। সিআইডি সূত্রে খবর, শুক্রবার মেদিনীপুর আদালতে হাজির করানো হবে সুমিতকে। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানাতে পারে সিআইডি।
সুমিতের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “প্রসিদ্ধ তোলাবাজ সুমিত রায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টে রক্ষাকবচ বাতিল হওয়ায় কালীঘাটে তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১২১, কালীঘাট রোড থেকে তাঁকে রাজ্য পুলিশের সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে।”
শালবনিতে জমি দুর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত সুমিত। ওই মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন হাই কোর্ট খারিজ করে দিয়েছিল। তার পরে সুপ্রিম কোর্টে যান সুমিত। বুধবারের পর বৃহস্পতিবার মামলাটির শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে। শীর্ষ আদালত বৃহস্পতিবার সুমিতের রক্ষাকবচ বাতিল করে দেয়। ফলে সুমিতকে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে আর কোনও আইনগত বাধা ছিল না। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানায়, সুমিতকে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি তদন্তে সঠিক ভাবে সাহায্য করেননি।
সুমিতের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল রাজ্য। বুধবারের শুনানিতে রাজ্যের তরফে বলা হয়, জুনে সুমিতের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। মোট প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে অভিষেকের আপ্তসহায়কের অ্যাকাউন্টে। এই টাকার উৎস কী, তা নিয়ে সন্দেহপ্রকাশ করেন তদন্তকারীরা। তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের লিখিত রেকর্ড দেখতে চেয়েছিল রাজ্য। বুধবার আদালতে তা জমা করে রাজ্য। অন্য দিকে সুমিতের হয়েও এই সংক্রান্ত একটি লিখিত নথি আদালতে জমা করেন তাঁর আইনজীবী। উভয় পক্ষের জমা দেওয়া নথি বা রেকর্ড খতিয়ে দেখার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, “আমরা সময় এবং সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু সুমিত তদন্তে সহযোগিতা করেননি।”
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর জমি দুর্নীতির মামলায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরাকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। শালবনি থানা পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশের আওতায়। জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়, সুজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু টাকার হদিস পাওয়া যায়। সেই টাকা দু’তিন হাত ঘোরে। সেই সূত্রে মেলে সুমিতের নাম। অভিযোগ, সরকারি জমির চরিত্র বদল করে, নকল নথি বানিয়ে তা চড়া দামে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রি করা হত।
সুমিতের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ দায়ের হয়েছিল শালবনি থানায়। সেই মামলাতেই তাঁকে খুঁজতে গত জুন মাসে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল পুলিশ। মাঝরাতে অভিষেকের বাড়ির তালা ভেঙে সুমিতের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়েছিল। কিন্তু প্রথমে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল সাংসদের আপ্তসহায়কের খোঁজ মেলেনি। তার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে মামলা হয়।