বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন

জুলাইয়ের রেকর্ড আয় শেষে আগস্টে সামান্য কমলো রপ্তানি

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে গত ১২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানি আয় করেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই রেকর্ড ধরে রাখতে পারেনি দেশ। এক মাসের ব্যবধানে (জুলাইয়ের তুলনায়) আগস্টে পণ্য রপ্তানি আয় কমেছে ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। সদ্য সমাপ্ত মাসটিতে রপ্তানি হয়েছে ৪৪২ কোটি ডলারের পণ্য, যেখানে জুলাইয়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৭২ কোটি ডলারের।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯১৫ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ দুই মাসের সামগ্রিক হিসাবে পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক খাত আগের বছরের আগস্টের তুলনায় গত মাসে ১৩ দশমিক ৯২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আগস্টে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ৩৮৯ কোটি ডলার।

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ১২ শতাংশ বেশি।

তৈরি পোশাকের বাইরেও বেশ কয়েকটি অপ্রচলিত খাতে আগস্টে উল্লেখনীয় প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। এর মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৮ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ ছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রীতে ২৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্যে ২৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য জুতা রপ্তানিতে ১৫ দশমিক ২৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের সার্বিক হিসাবে মুদ্রিত সামগ্রী রপ্তানিতে সবচেয়ে বেশি ৪১ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময়ে ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যালসে ৩৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ, অন্যান্য জুতায় ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট মাসে রপ্তানি বেড়েছে ২৬ দশমিক ০৯ শতাংশ। দুই মাসের হিসাবে (জুলাই-আগস্ট) দেশটির বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৯০ শতাংশ। রপ্তানি বাজারের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য; এরপর রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। আগস্টে দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ১৪১ দশমিক ০৩ শতাংশ। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ৪২ দশমিক ০৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

ইপিবির বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারের বড় গন্তব্যগুলোতে চাহিদা বৃদ্ধি, নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি, উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধির ফলে এই সার্বিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে বাণিজ্যিক পরিবেশ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও নিটওয়্যার ও ওভেন পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, পাট, প্রকৌশল পণ্য ও জুতা রপ্তানিতে এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের বিশ্বস্ততা ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে রপ্তানি সামান্য কমলেও, বছরভিত্তিক ও পুরো অর্থবছরের সার্বিক বিচারে প্রবৃদ্ধির ধারাতেই রয়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি খাত। সামনে এই ধারা বজায় রাখতে পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোই মূল চ্যালেঞ্জ হবে।


এই বিভাগের আরো খবর