সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন

বিজেপি জানে জোট সাজাতে, ঘুটি তারা সেভাবেই বসায়

এমডি আলী জামান
আপডেট : শুক্রবার, ১৪ জুন, ২০২৪

ভারতে তৃতীয় বারের মতো নরেন্দ্র মোদী প্রধান মন্ত্রী হলেন। তবে আগের দুইবারের মতো একক ভাবে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে পারেনি। এককভাবে ক্ষমতায় আসতে দরকার ছিল ২৭২ আসনে জয়।কিন্তু বিজেপি পেয়েছে ২৪০ আসন। স্বভাবতই বিজেপিকে এবার এনডিএ জোটের অন্যান্য সদস্যদের সমর্থন নিতে হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ আসনের তেলেগু দেশম পার্টি, ১২ আসনের জনতা দল (ইউনাইটেড) ছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যের ছোট ছোট দল রয়েছে।যাদের সম্মিলিত সংখ্যা ২৯৩।
প্রথম দিকে খুব আওয়াজ উঠেছিল যে, টিডিপি’র চন্দ্রবাবু নাইডু আর জেডিইউ এর নীতিশ কুমারের উপর খুব বেশী নির্ভর করতে হবে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদীকে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বিজেপি তথা মোদী যেভাবে চেয়েছে সেভাবেই মন্ত্রী সভা গঠন করা করা হয়েছে। প্রধান প্রধান মন্ত্রণালয় বিজেপি নিজেদের কাছেই রেখেছে। বিজেপির অন্যান্য শরীকদেরকে কম গুরুত্বপুর্ণ মন্ত্রনালয় দেয়া হয়েছে। কিছুটা গোস্বা হলেও টিডিপি- জেডিইউ সহ অন্যান্য দলগুলোও সেইটা একপ্রকার মেনে নিয়েছে।
টেলেগু দেশম পার্টি এর মধ্যে আর একটা বড় সাফল্য অর্জন করেছে। অন্ধ্র প্রদেশের এসেম্বলি ইলেকশন নির্বাচনে ১৭৫টি আসনের মধ্যে ১৩৫টি আসন পেয়ে টিডিপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে জেডিইউ তথা নীতিশ কুমার এর বিহারে আগামী বছরের শুরুতে যে নির্বাচন হবে, তার ফলাফল তো অনিশ্চ্যতায় পড়েছে। অনেকে আশংকা করছে যে, বিজেপি কেন্দ্রে এইভাবে ক্ষমতায় থাকলে বিহারে নীতীশের অবস্থা হবে- উড়িস্যার নবীন পট্টনায়কের মতো। এসেম্বলী ইলেকশনে নবীন পট্টনায়কের বিজু জনতা দল উড়িস্যা থেকে সাফা হয়ে গেছে। সেখানে বিজু জনতা দলের ২৪ বছরের ক্ষমতার অবসান ঘটেছে। কথিত এনডিএ জোট একত্রে নির্বাচন করলেও এককভাবে ক্ষমতায় বসেছে বিজেপি। মেজরিটি আসন পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছে বিজেপির মোহন চরন মাঝি। অথচ বিগত বছর গুলীতে রাজ্যসভায় বিজেপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার অভাব এই নবীন পট্টনায়কই পুরন করে দিতো। আর বিজেপির আনা ন্যায়- অন্যায় আইনগুলো বিনা বাধায় পাশ হয়ে যেতো।
ভারতের অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছে,বিজেপি তার জোট সঙ্গীদের হাতে ঝুনঝুনি ধরিয়ে দিয়েছে। আবার অনেকে বলছে, বিজেপি কি আদতে সামনের পাঁচ বছর একটানা ক্ষমতায় থাকতে চায় কিনা? নাকি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়ে আবার এককভাবে ক্ষমতায় আসতে চায়?
তারা এর স্বপক্ষে এই বলে যুক্তি দিচ্ছে যে, বিজেপি যদি একটা শক্তিশালী সরকার চাইতো, তবে জোটের অপরাপর দলগুলোকে যথাযথ মুল্যায়ন করতো। টিডিপি কয়েকটা বড় মন্ত্রণালয়সহ লোকসভার স্পীকার পদটির সিরিয়াস দাবীদার। কিন্তু বিজেপি সেটাও ছাড়তে চায় না। বিজেপি একটা অদ্ভুৎ যুক্তি দাড় করিয়েছে। তারা অন্ধ্র প্রদেশ থেকেই দাগুবতি পুন্ডেশ্বরীকে স্পীকার করার প্রস্তাব দিয়েছে। বলছে, এইতো টিডিপির দাবী পুরন করলাম। এই দাগুবতি টিডিপি প্রধান চন্দ্রবাবু নাইডুর শ্যালিকা। কিন্তু তার আসল পরিচয় তিনি অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য বিজেপির সভাপতি।
তবে ঝানু চন্দ্রবাবু নাইডু আর টিডিপি জানে, কিভাবে আস্তিনের তাস বের করে সময় মতো খেলতে হয়। ইতিমধ্যে তিনি পার্শ্ববর্তী রাজ্য তামিলনাড়ুর মুখ্য মন্ত্রী স্টালিনের সাথে কথা বলেছেন।আর এরমধ্যে অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে ফেলেছেন।
ভারতের ইন্ডিয়া জোট ইতিমধ্যে আর একটা চাল দিয়েছে। বলেছে, চাইলে তারা নীতিশ কুমারকে প্রধানমন্ত্রী করতে প্রস্তুত, আর টিডিপি যদি আগামী ২৬ জুন অনষ্ঠিতব্য স্পীকার পদে কন্টেষ্ট করে তবে ইন্ডিয়া জোটের লোকসভার সদস্যরা তার পক্ষে ভোট দেবে। মহারাষ্ট্রের একনাথ সিন্ধের ৭ সদস্যের সমর্থন পেলে ভারতের ক্ষমতার রাজনীতির উলোট পালট হতে সময় লাগবে না।
আবার এর মধ্যে একটা গুরুত্বপুর্ণ বিষয় আছে। কংগ্রেসের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোট এই নির্বাচনে ভালো ফল করলেও একক ভাবে কংগ্রেস পেয়েছে মাত্র ৯৯টা আসন। লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩। আপাতত ইন্ডিয়া জোটকে শক্ত পোক্ত দেখালেও অদুর ভবিষ্যতে শরীক দলগুলো নিজেদের জোটবদ্ধ অবস্থান কতটা ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে অনেকের সন্দেহ আছে। এর কারনও আছে।
কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু ভালো ভালো কথা বললেও- তাদের অতীত রাজনৈতিক চরিত্র খুব সুখকর নয়। সেইটা তারা কতটা বদলাতে পারবে, তা নিয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে।
সেক্ষেত্রে জোট যদি টিকেও যায়,কংগ্রেস থেকে প্রধানমন্ত্রীত্ব’- ইন্ডিয়া জোটের শরীকরা খুব সহজে মেনে নেবে না। বিজেপি তথা আরএসএস এই বিষয়টা ভালভাবেই জানে। আর দাবার ঘুঁটি তারা সেভাবেই সাজাবে।


এই বিভাগের আরো খবর