আগামি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ফারাক্কার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ রয়েছে উল্লেখ করে পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, দুই দেশের টেকনিক্যাল কমিটি মাঠ পর্যায় থেকে প্রতিনিয়ত তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে। যথাসময়ে ফারাক্কা পানি বন্টন চুক্তি নবায়ন কিংবা নতুন করে হবে। উপদেষ্টা বলেন, পদ্মার পানি আমাদের ন্যায্য হিস্যা, এই অধিকারের জায়গা থেকে আমরা ভারতের সাথে কথা বলবো।

সোমবার সকালে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় বড়াল নদীর উৎসমুখ পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বলেন, প্রকল্পের স্বার্থে নদীর প্রবাহে আর বাঁধা রাখা যাবে না। এসময়, বড়াল নদীতে স্লুইসগেটের দরকার নেই।
দেশে বালু ও ভুমি দস্যুতা চরমে পৌঁছেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ফসলি জমিতে পুকুর খনন পরিবেশকে হুমকিতে ফেলেছে। এটি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের ১০ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এদিকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে প্লাস্টিকের ব্যবহার সীমিত করতে হবে। বিশেষ করে একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন ব্যাগ সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা জরুরি। তিনি বলেন, পলিথিনের পরিবর্তে কাপড় ও পাটের ব্যাগ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
আজ সোমবার (১৯ মে) সকালে রাজশাহী সার্কিট হাউজে বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।
প্লাস্টিক ও পলিথিন শপিং ব্যাগের ভয়াবহ পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সরকার ইতোমধ্যে নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণ এগিয়ে আসলে একাজে সফল হওয়া যাবে।
সভায় নগরায়নের চাপে পুকুর, খাল ও অন্যান্য জলাশয় ভরাটের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পানি সংরক্ষণ ও ভূগর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষায় প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা করা অপরিহার্য। সভায় উপদেষ্টা তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব জীবনধারার চর্চায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং বলেন, আমাদের প্রতিটি ছোট পদক্ষেপ বড় পরিবর্তনের পথ তৈরি করতে পারে।
মতবিনিময় সভায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, বাংলাদেশ পরিবর্তন আন্দোলন (বাপা) এর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবীর- সহ পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সকলে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উপদেষ্টা জেলা প্রশাসককে পুকুর জলাশয় সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। এক্ষেত্রে তাঁর মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলে আশ্বস্ত করেন।