শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

রাজশাহীর আলোচিত সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানী ঢাকার আদাবর থেকে তাঁকে বিস্ফোরক আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার করে র‌্যাব-৫-এর রাজশাহীর একটি দল। রাজশাহী নিয়ে আসার পর তাঁকে বাগমারা থানায় হস্তান্তর করা হবে।’
গত ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় রাজশাহীর বাগমারায় যুবদল নেতা মুনছুর রহমানকে গুলি করার অভিযোগে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এনামুল হকসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হয়। বাগমারার গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ভুক্তভোগী মুনছুর রহমান বাদী হয়ে ১০ সেপ্টেম্বর মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যুবদল নেতা মুনছুর রহমান মোটরসাইকেল নিয়ে উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জে আসছিলেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি ভবানীগঞ্জ কারিগরি কলেজের সামনে পৌঁছালে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতা–কর্মীরা লাঠি, হকিস্টিক, রামদা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাঁদের ধাওয়া করেন। এ সময় মুনছুর রহমান দৌড়ে পালানোর সময় ধানখেতের ভেতরে পড়ে যান। সেখানেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর পকেটে থাকা আট হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন হামলাকারীরা। তাঁকে পিটিয়ে জখম করার পর তাঁর ডান পায়ে যুবলীগের নেতা সোহেল রানা ও বাঁ পায়ে গুলি করেন যুবলীগ নেতা শাহিন ইসলাম। একটি গুলি মুনছুর রহমানের পায়ের এক পাশ দিয়ে ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আরেকটি গুলি পায়ে আটকে যায়।
এনা গ্রুপের চেয়ারম্যান এনামুল হক নবম, দশম ও একাদশ সংসদের সদস্য ছিলেন। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিও ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতি করে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ঋণের নামে তিনি ব্যাংক থেকেও বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

এর আগে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২ সেপ্টেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয়ে থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজশাহী-৪ আসনের সাবেক এমপি এনামুল হকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যক্রমসহ নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আছে। তিনি তার নির্বাচিত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি নিয়োগে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ।
তার নিজ নামে রাজশাহী, ঢাকা ও গাজীপুরে কৃষি ও অকৃষিজমিসহ তাদের পরিবারের নামে মোট ২৩ কোটি ৫০ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া, তার দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য গোয়েন্দা তথ্যানুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া যায়।

 


এই বিভাগের আরো খবর