জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে জি টু জি (গভর্নমেন্ট টু গভর্নমেন্ট) মেয়াদি চুক্তির আওতায় সরকার ১৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। এজন্য ব্যয় হবে ১৬ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জ্বালানি বিভাগের উপস্থাপন করা এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সভার পরে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান।
এছাড়া ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে জি টু জি চুক্তির আওতায় জ্বালানি তেল আমদানির আরও একটি প্রস্তাব অনুমোদন হয়েছে। জুলাই থেকে ডিসেম্বরে সময়ে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। এতে ২৭৩ কোটি ৬৭ লাখ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন মাহমুদুল হোসাইন খান।
এর বাইরেও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করবে বিপিসি। তারা বছরে প্রায় ৫০ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে থাকে।
জ্বালানি বিভাগের আরেক প্রস্তাবে স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে কমিটি। সুইজারল্যান্ডের টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড থেকে প্রতি ইউনিট বা প্রতি এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন মেট্রিক ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) এলএনজি কেনা হবে ১২ দশমিক ৫৮ মার্কিন ডলারে। একটি কার্গোতে ৩৩ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে। এতে মোট ব্যয় হবে ৫৮৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
এই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদনের মাধ্যমে চলতি বছরে পেট্রোবাংলাকে স্পট মার্কেট থেকে মোট ২৩ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দিলো ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এর বাইরে জিটুজি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে।
জ্বালানি বিভাগের প্রস্তাবের বাইরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রস্তাবে কানানিয়ান কমার্শিয়ার করপোরেশন থেকে ৮০ হাজার টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন প্রতি টন সার ২৭৫ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলারে কিনবে। এজন্য মোট ব্যয় হবে ২৬০ কোটি টাকা।