দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি বলতে চাই, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়ার রাজনীতি, রাষ্ট্র চিন্তাকে প্রতিটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য একটি বার্তা আছে। কী সেই বার্তা? বার্তাটি হলো, রাষ্ট্র পরিচালনায় সফল হতে হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করতে হবে। দেশ এবং জনগণের স্বার্থকে সবার আগে বিবেচনায় আনতে হবে, বিবেচনা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১০ মাসেও জাতীয় নির্বাচনের সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। ফলে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে এক ধরনের অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে এবং এই অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হওয়ার কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বলা যেতে পারে স্থবির হয়ে পড়েছে। জনগণের ভোটের নির্দিষ্ট মেয়াদে স্থিতিশীল সরকার না থাকায় দেশের কাঙ্ক্ষিত বিনিয়োগও হচ্ছে না। ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো বলছে, নানা কারণে ইতোমধ্যেই শত শত শিল্প পাওয়ার কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আরও অনেক কারখানা হয়ে বিভিন্ন সেক্টরে এ ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।’
আলোচনা সভায় ভার্চুূয়ালি বক্তব্য রাখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মনে হয় জনগণের আকাঙ্ক্ষ উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। গণতন্ত্রের পক্ষে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের তেমন কোনও আপত্তি নেই। তবে সংস্কার নিয়ে সরকারের অহেতুক সময় ক্ষেপনে আপত্তি অবশ্যই রয়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলের নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সংগঠন এ ব্যাপারে তাদের আপত্তির কথা জানিয়েছে, তাদের কনসাসের কথা জানিয়েছে এবং এখানে আমরা মনে করি প্রস্তাবের সংস্কার শেষ করে যদি তাদের ইনটেনশন সঠিক থাকে… আমরা দাবি করেছি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে। যেহেতু কম বেশি সব বিষয় অধিকাংশ দলগুলোর মধ্যে একমত রয়েছে… ডিসেম্বরের আগেও নির্বাচন করা সম্ভব।’
বক্তব্যের শুরুতে শহীদ জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবন-কর্ম এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ও কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এছাড়া বক্তব্যের শেষে বাবা জিয়াউর রহমানের জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি হাসপাতালের চিকিৎসাধীন থাকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
জিয়াউর রহমানের স্মরণে এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে খালেদা জিয়ার বক্তব্য দল ও দেশবাসীর মধ্যে গণতন্ত্র ফেরাতে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বক্তব্য রাখেন।







