শুক্রবার ঢাকার রায়ের বাজার সাদেক খান কৃষি বাজারের পেঁয়াজের আড়ত এবং ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ সংকটের কারণেই পুরোনো পেঁয়াজের দাম এমন চড়া হয়েছে। তাদের মতে, পাইকারি দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা গেলে দাম কিছুটা কমবে। আড়তদাররা জানান, ভারত ইতোমধ্যে আমদানি করার জন্য বন্দরগুলোতে পেঁয়াজ এনে রেখেছে, শুধু আমদানির অনুমতি দিলেই দাম কমে যাবে।
মােহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের পেঁয়াজ বিক্রেতা আমজাদ হোসেন বলেন, ‘নতুন পেঁয়াজ এখনও বাজারে আসেনি। দেশি পেঁয়াজ যেটা আসছে, সেটার মানও খুব বেশি ভালো না। সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে গত দু-তিন দিন ধরেই দাম বাড়ছে। এই দাম নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত কমবে না।’
রাজধানীর বিভিন্ন পেঁয়াজের খুচরা ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা গেছে। খুচরা ক্রেতা মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘গত সপ্তাহে যে পেঁয়াজ কিনেছিলাম ১১৫ টাকা দিয়ে, আজকে কিনছি ১৫৫ টাকা। সরকারের এদিকে নজর দেওয়া দরকার। ভারতের পেঁয়াজ আমদানি করলে আমাদের পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।’
জানা গেছে, সাময়িক এই অস্থিরতা ঠেকানোর জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৫০০ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে চেয়েছিল, কিন্তু কৃষি মন্ত্রণালয় তাতে বিরোধিতা করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুক্তি ছিল, নভেম্বরের মাঝামাঝিতেই নতুন উৎপাদিত দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসবে। কিন্তু প্রক্ষেপণের প্রায় মাসখানেক সময় পেরিয়ে গেলেও বাজারে দেশি পেঁয়াজের পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। এ কারণে বাজারে আবার অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
এ দিকে, বাজারে পাতাসহ নতুন পেঁয়াজ অল্প পরিমাণে আসতে শুরু করেছে, যা ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চড়েছে পুরোনো দেশি পেঁয়াজের দাম, যা ক্রেতাকে কিনতে হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা দরে।