জেসমিন আক্তার বলেন , আমার স্বামী প্রবাসী। আমি বসে না থেকে কৃষি কাজ করছি। এতে পরিবারে বাড়তি আয় হচ্ছে। দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ হচ্ছে। প্রবাসে থেকেও আমার স্বামী সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে কৃষি কাজে। ছোট বেলা থেকেই কৃষিকাজ আমার ভালো লাগে। শখের বসে অনেক ধরনের শাক সবজি আবাদ করতে করতে এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এ বছর বাদামের পাশাপাশি ফুল কপি, পেঁয়াজ, রসুন, তিলসহ বেশ কিছু সবজি চাষাবাদ করেছি। এখন ক্ষেত থেকে বাদাম তোলা শুরু করেছি। গত বছর বাদাম ১২ হাজার /১৩ হাজার টাকা মণ বিক্রি করেছি। আমাদের এলাকায় বাদাম চাষ কম হয় তাই দাম মোটামুটি ভালো হবে আশা করছি। বাদাম তোলা শেষ হলে ভূট্টা চাষ করবো এ ক্ষেতে। তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষি কাজের সব ধরনের সহযোগিতার জন্য সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।
স্থানীয় আলাল মিয়া জানান, জেসমিন একজন পরিশ্রমী নারী। তিনি জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল ফলান। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফসলের মাঠে সময় দেন। কৃষি কাজে শ্রমিক নেন পাশাপাশি নিজে কাজ করেন। কৃষি কাজের পাশাপাশি হাঁস, মুরগী ও ছাগল লালন পালন করে সফল হয়েছেন জেসমিন। এভাবেই একজন নারী হয়েও মাঠে ময়দানে লড়াই সংগ্রাম করেই যাচ্ছেন তিনি। তার এ ধরনের কার্যক্রম দেখে এলাকার অনেক নারী উদ্বুদ্ধ হচ্ছে কৃষি কাজে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় জানায়, জেসমিন আক্তারের মতো নারীরা কৃষি কাজে এগিয়ে আসলে কৃষিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। সেই সঙ্গে কৃষিপ্রধান দেশ হিসাবে নারীদের যেমন কৃষির ওপর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে বাড়বে কৃষি উৎপাদনশীলতাও। কৃষি বিভাগ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে। মাঠ পর্যায়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছেন।