২৭ বছর বয়সী নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তরুণরা। ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয় এই আন্দোলনের জেরে। এখন নাহিদ ইসলাম সেই আন্দোলনের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে রাজনীতিতে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক নাহিদ গত সপ্তাহে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি নতুন গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
নাহিদ বলেন, আমি আন্তরিকভাবে আশা করি এবং বিশ্বাস করি যে আমরা এবার জয়ী হবো। কিন্তু এই নির্বাচন পৃথিবীর শেষ নয়… আমাদের লক্ষ্য হলো এই শক্তিটিকে আরও ৫০, ১০০ অথবা আরও বেশি বছর ধরে ধরে রাখা।এনসিপি নিজেকে একটি বৃহৎ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। তবে দল গঠনের পর থেকেই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। গত মাসে দল গঠনের কয়েক দিনের মধ্যেই একজন সমকামী অধিকার কর্মীকে দলের নেতৃত্ব কমিটি থেকে সরানো হয়। নাহিদ বলেছেন, ‘আমরা অন্তর্ভুক্তিতে বিশ্বাস করি, কিন্তু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক নীতিমালা দ্বারা নির্ধারিত কিছু সীমা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের এগিয়ে এনেছি এবং সব বর্ণ ও ধর্মের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করেছি। আমরা নিশ্চিত করব যে সব নাগরিক তাদের অধিকার ভোগ করতে পারে।’এনসিপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আগামী জাতীয় নির্বাচন যত দ্রুত সম্ভব আয়োজনের দাবি জানিয়েছে। বিএনপির যুক্তি, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে একটি সরকার গঠনের জন্য দ্রুত নির্বাচন প্রয়োজন। তবে নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়, কিন্তু এটি সত্য নয়।’
তিনি আরও বলেছেন, হাসিনার পতনের পর দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজন ‘সম্ভব নয়’।এনসিপির আরেকটি লক্ষ্য হলো গণপরিষদ গঠন। এই পরিষদ বাংলাদেশের সংবিধানের গোড়া থেকে সংস্কার করবে এবং স্থায়ী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে। নাহিদ বলেছেন, ‘আমরা একটি বৃহৎ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক দল গঠন করতে চাই, যেখানে সবাই অংশ নিতে পারবে।’







