সোয়াল ট নান নামের ওই গেস্টহাউজটি ভেঙে পড়েছিল ইট ও লোহার গাদায়। তিন মাউং ছিলেন নিচতলার একটি রুমে। তিনি বলেন, আমার মনে হচ্ছিল, আমি নরকে আছি। পুরো শরীর জ্বলছিল, শুধু পানি চাইছিল। কোথাও পানি পাচ্ছিলাম না। তাই শরীর থেকে বের হওয়া তরল দিয়েই তৃষ্ণা মেটাতে হচ্ছিল। সাগাইংয়ের ধ্বংসলীলা প্রতিবেশী মান্ডালয়ের চেয়ে অনেক ভয়াবহ। শহরটির বেশির ভাগ ভবনই ধসে পড়েছে। প্রধান সড়কে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইরাবতী নদীর ওপরের আভা ব্রিজও ধসে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমার রেড ক্রস মৃতদেহ উদ্ধার করছিল, জীবিত কাউকে পাওয়ার আশা করছিল না। তিন মাউংকে জীবিত অবস্থায় পাওয়ার পর একটি মালয়েশীয় উদ্ধারকারী দল তাকে উদ্ধার করে। তিন মাউংয়ের বোন নান ইয়োন (৫০) বলেন, আমি কী বলব! যখন তাকে উদ্ধার করা হলো, আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে নাচছিলাম, কাঁদছিলাম ও বুক চাপড়াচ্ছিলাম।
হাসপাতালে এসে তিন মাউং বোনকে বলেছিলেন, আপু, আমি ভালো আছি।নান ইয়োন বলেন, তার ইচ্ছাশক্তি খুবই প্রবল। এজন্যই সে বেঁচে আছে।হাসপাতালের করিডরে শুয়ে আছেন তিন মাউং। ভূমিকম্পের পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় কাউকেই ভবনের ভেতরে রাখা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমি এখন মুক্ত। মরে গেলে তো কিছুই করতে পারতাম না। আমি বেঁচে আছি, এখন যা ইচ্ছা করতে পারব।তিনি আবার স্কুলশিক্ষক হিসেবে কাজে ফিরে যেতে চান। তবে বৌদ্ধ ভিক্ষু হওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানালেন।







