মার্কিন ট্রেজারি প্রধান স্কট বেসেন্ট জানান, আগামী সোমবার তিনি প্রস্তাবিত এই নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত তুলে ধরবেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোনও ধরনের ‘সহযোগিতা’ দেওয়া দেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
ইরানি ও ইরাকি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি দেশের অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, আমাদের যত সামরিক ক্ষমতাই থাক না কেন, মানুষ যদি ক্ষুধার্ত থাকে এবং আমাদের আর্থিক লেনদেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জাতীয় উৎপাদন না থাকে, তবে আমরা টিকে থাকতে পারব না।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লিখেছেন, ১৪ বছর আগে বলা হয়েছিল ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ হয়েছে। ৮ বছর আগে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ ব্যর্থ হয়েছে। ৫ মাস আগে ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ ব্যর্থ হয়েছে। আজ বলা হচ্ছে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’, এটিও ব্যর্থ হতে বাধ্য।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কঠোর নিষেধাজ্ঞার মাঝে থাকা ইরানি জনগণ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর এই যুদ্ধ বন্ধের অভ্যন্তরীণ চাপ রয়েছে, কারণ জ্বালানির উচ্চ মূল্য তার জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন নৌ-অবরোধের পর থেকেই চীনে ইরানি অপরিশোধিত তেল বিক্রি কমতে শুরু করেছে।
কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, চীন ইরানের মোট তেল রফতানির ৮০ শতাংশের বেশি কিনে থাকে। বিষয়টি নিয়ে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ সৃষ্টি করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না উল্লেখ করে কূটনীতির ওপর জোর দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স







