বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

রহমান মুফিজের ‘এত জাদুকর’ বিপন্ন মানুষের আখ্যান

নিউজ ডেস্ক
আপডেট : শুক্রবার, ১৩ মার্চ, ২০২৬

১৯৭৯ সালের ১৭ মে কক্সবাজারের চৌফলদন্ডীতে জন্মগ্রহণ করা এই কবি ইতোমধ্যেই ‘বাজি রাখো চোখ’, ‘খুনের কলাকৌশল’, ‘মাউথ অর্গান যেভাবে বাজে’, ‘রহমান বাড়ি যাও’, ‘বিষনগর’ ও ‘বিপরীত বিনাশ’-এর মতো গ্রন্থ দিয়ে কবিতাপ্রেমীদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। ‘এত জাদুকরে’ তিনি অবলীলায় বিশ্বরাজনীতি থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তের ভণ্ডামি, ফিলিস্তিনের রক্তপাত থেকে বাংলার রাজপথের গণঅভ্যুত্থান এবং নিবিড় প্রেমের শূন্যতা থেকে অস্তিত্বের সংকটকে এক সুতোয় গেঁথেছেন।

‘মিকেলেঞ্জেলো খোদাই করছেন আরেকটা পিয়েতা

ছেনির সাহস দেখতে দেখতে মিকেলেঞ্জেলো

প্রথমবারের মতো বুঝতে পারলেন—শিশুদের মৃত্যু

উৎকীর্ণ করেই মানুষ পৃথিবীর মালিক হয়েছে

না-হলে এতো বুলেট কেউ উৎপাদন করে!’

কী অসামান্য এক দার্শনিক উপলব্ধি! মানবসভ্যতার অগ্রগতি মানেই যেন আরও বেশি মারণাস্ত্রের আবিষ্কার, আরও বেশি শিশুর মৃত্যু নিশ্চিত করার আয়োজন। মিকেলেঞ্জেলো উপলব্ধি করেন, মানুষ শিল্পের স্রষ্টা নয়, বরং ‘মানুষ মূলত ছেনি, মানুষ মূলত খুনের কারবারি’। কবিতার চূড়ান্ত আঘাতটি আসে যখন বেথেলহেমে শান্তা ক্লজ নেমে আসেন। বড়দিনের ভোরে শান্তা ক্লজের কাজ শিশুদের মাঝে উপহার বিলি করা। অথচ তিনি দেখছেন কেবল অগণিত শিশুর মৃতদেহ। শান্তা ক্লজ প্রশ্ন করেন, ‘তোমাদের সেমিট্রিতে আর কত চকলেট লাগবে? আট হাজার? না, আমি তো দশ হাজার চকলেট এনেছি…’। মৃত আট হাজার যীশুর (ফিলিস্তিনি শিশুদের রূপক) লাশ কোলে নিয়ে বসে থাকা মরিয়মের নির্বাক চোখের দিকে তাকিয়ে শান্তা ক্লজের যে হাসি জন্ম নেয়, তা মূলত এক চরম অসহায়ত্ব এবং সভ্যতার প্রতি তীব্র ধিক্কারের হাসি। এখানে উৎসব, ধর্ম, শিল্প এবং মানবতা—সবকিছুই বুলেটের কাছে পরাজিত।

একই সুর অনুরণিত হয় ‘শেষের কবিতা প্রথমে’ কবিতায়। এখানে কবি বৈশ্বিক অসাম্য এবং পুঁজিবাদের নগ্ন রূপকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। ‘কবিতার দোকানে এখন মাংস বিক্রি হচ্ছে’ পঙ্‌ক্তিটি দিয়ে তিনি শিল্প-সাহিত্যের চরম বাণিজ্যিকীকরণকে ইঙ্গিত করেন। এরপর ইতিহাস খুঁড়ে তিনি বর্তমান মানুষের ভেতরে আবিষ্কার করেন আদিম গোঁয়ার ‘হোমো ইরেক্টাস’কে। সভ্যতার মোড়কে মানুষ আজও সেই আদিম জানোয়ারই রয়ে গেছে। ‘আফ্রিকার ক্রন্দন থেকে এশিয়ার চিৎকারের দূরত্ব কত’—এই জিজ্ঞাসা প্রমাণ করে, কবির দৃষ্টি নিবদ্ধ বিশ্বব্যাপী শোষিত মানুষের একাত্মতার দিকে।

রহমান মুফিজ অভাবনীয় মুনশিয়ানায় প্রাত্যহিক জীবনের তুচ্ছ অনুষঙ্গকে ব্যবহার করে গভীর রাজনৈতিক ও সমাজতাত্ত্বিক বয়ান তৈরি করতে পারেন। ‘ডিওডরেন্ট শেষ হয়ে গেলে’ কবিতাটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। একটি ডিওডরেন্ট বা সুগন্ধির বোতল শেষ হয়ে যাওয়া কীভাবে একজন মানুষের ভেতরে অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে, তা এই কবিতায় রূপকের আড়ালে উন্মোচিত হয়েছে।

‘ডিওডরেন্ট শেষ হয়ে গেলে

নিজেকে খুব গরিব গরিব লাগে

মনে হয় দেরাজে গচ্ছিত সঞ্চয় সব

লুটে নিয়ে গেছে কেউ।

মনে হয় নিঃস্ব আমি, প্রলেতারিয়েত!

বিপ্লবহীনতায় কুঁকড়ে পড়ে থাকবো

তৃতীয়বিশ্বে, দারিদ্ররেখার নিচে…’

এখানে ডিওডরেন্ট কেবল একটি প্রসাধন সামগ্রী নয়; এটি হলো মধ্যবিত্তের সেই ছদ্মবেশ, যা দিয়ে সে তার অন্তর্গত দৈন্য, আপসকামিতা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতাকে ঢেকে রাখে। পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় মানুষ নিজেকে উচ্চবিত্ত বা ‘এলিট’ প্রমাণের এক অসুস্থ প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সুগন্ধি সেই কৃত্রিম আভিজাত্যের প্রতীক। ডিওডরেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো সেই কৃত্রিম আবরণ খসে পড়া। তখন মধ্যবিত্ত তার চিরচেনা আপসকামী নগ্ন রূপটি দেখতে পায়। কবি নিপুণভাবে দেখিয়েছেন কীভাবে এই বাহ্যিক প্রলেপগুলো মানুষকে তার প্রকৃত শ্রেণি-সংগ্রাম থেকে দূরে সরিয়ে রাখে—‘লুকিয়ে লুকিয়ে বড় করে দেয় আমাকে / এলিট করে দেয় / প্রেম দেয়, কাম দেয় / সুগন্ধের ভেতর সেঁদিয়ে ভোলায় দুর্বহ অতীত।’ এটি যেন কার্ল মার্কসের তত্ত্বের এক অভিনব কাব্যিক ভাষান্তর, যেখানে পণ্য মানুষের সত্তাকে গ্রাস করে নেয় এবং তাকে প্রকৃত ‘বিপ্লব’ থেকে বিচ্যুত করে।

কবির চেতনা কেবল বৈশ্বিক নয়, শেকড়ের খুব গভীরে প্রোথিত। সমকালীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং রাজপথের উত্তাপ প্রবলভাবে উঠে এসেছে তাঁর কবিতায়। ‘মহররম’ কবিতায় তিনি কারবালার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিকে মিলিয়ে দিয়েছেন বাংলার সমসাময়িক মুক্তিসংগ্রামের সাথে। মহররমের তাজিয়া মিছিলের ‘হায় হোসেন’ মাতম এখানে রূপান্তরিত হয়েছে শোষিত জনতার দ্রোহে।

‘ফোরাতের তীর থেকে যে হাওয়া এসে ঠেকেছে বাংলার বুকে / আজ তার বিরান গন্ধের ভেতর একটা শব্দই কাঁদছে—মেরুদণ্ড / মেরুদণ্ড মানে আবু সাইদ; আজ হোসেনের পাশে পাশে হাঁটে…’

এখানে ‘আবু সাইদ’ নামটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক রূপক। বুকের ওপর গুলি বরণ করে নেওয়া আবু সাইদ হয়ে ওঠেন আধুনিক সময়ের কারবালার শহিদ। হোসেনের প্রতিরোধের সাথে আবু সাইদের আত্মত্যাগকে সমান্তরালে দাঁড় করিয়ে কবি এক মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনা তৈরি করেছেন। ‘বুলেটের গর্জনই শুনছে না / শুনছে কোটি মানুষের সংকল্প মুক্তি চাই মুক্তি চাই’—এই পঙক্তিগুলো সরাসরি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণজাগরণের স্পষ্ট দলিল। চাবুকের ঘা, বেইমানের লাথি, আর অপবাদ মাথায় নিয়ে জেগে ওঠা শত মুখ ও আগুনের বুকের ছবি এঁকে কবি প্রমাণ করেছেন, তিনি কেবল নিভৃত ঘরের কবি নন, তিনি রাজপথের, জনতার এবং প্রতিরোধের কবি।

একই প্রতিবাদী আগুন দেখা যায় আরেকটি কবিতায় (অগ্রন্থিত ৪ নম্বর অংশ)—‘আমার অন্ধ চোখে ছুরি চালিয়ে দাও / ওদের রক্ত এমন তুলকালাম পৃথিবী হয়ে উঠছে—না দেখে মরতে চাই না।’ রাজপথে নেমে আসা নির্ভীক তরুণদের দেখে কবির ভেতরে যে আনন্দ ও রোমাঞ্চ তৈরি হয়, তা তিনি ব্যক্ত করেছেন অসামান্য ভাষায়। ‘মানুষের উপমা হয়ে উঠছে রাজপথ, শিরদাঁড়া পাচ্ছে ভাষা’—এই শব্দগুচ্ছ আগামী প্রজন্মের জন্য একটি ঐতিহাসিক স্লোগান হয়ে থাকার দাবি রাখে।

সামাজিক ও রাজনৈতিক কঠোর বাস্তবতার পাশাপাশি রহমান মুফিজের কবিতায় প্রেম এবং শূন্যতাবোধ এক ভিন্ন মাত্রায় ধরা দেয়। তাঁর প্রেম রোমান্টিক যুগের মতো পেলব বা স্বপ্নময় নয়; বরং তা অনেক বেশি বাস্তব, রূঢ় এবং অনেক ক্ষেত্রে আততায়ীর মতো।

‘প্রেম এক শিশুপ্রবৃত্তি’ কবিতায় কবি প্রেমের উদ্ভবকে এক আদিম ও আকস্মিক ঘটনা হিসেবে দেখেন। ‘পৃথিবীর দৃশ্যাবলী খানখান হয়ে যায়—খুনির সহজ নাম নিয়ে হানা দেয় হাওয়া।’ প্রেম এখানে প্রশান্তি নিয়ে আসে না, বরং চেনা জগৎকে তছনছ করে দেয়। আরেকটি খণ্ড কবিতায় (অগ্রন্থিত ৪) তিনি প্রেমের আগমনকে বর্ণনা করেছেন দৈনন্দিন জীবনের এক আকস্মিক ঝড় হিসেবে—‘একদিন আততায়ীর মতো আসবে প্রেম / এতটা নিরবে যে, টেরও পাবে না’। রোদ পোহানো, শাওয়ার নেওয়া, হেডফোনে গান শোনা বা ঝগড়া করার মতো অতি সাধারণ যাপিত জীবনের ফাঁক গলে প্রেম এসে হাজির হয়। এই প্রেম কাতর সন্তানের মতো কড়ে আঙুল টেনে বলে, ‘আমারে ন্যাও।’ প্রেমের এই অসহায় অথচ সর্বগ্রাসী রূপ পাঠককে তীব্রভাবে আলোড়িত করে।

‘হোমারের চোখ’ কবিতায় প্রেমিকের অনুপস্থিতি এবং স্মৃতির ভার এক মহাজাগতিক রূপ পেয়েছে। হোমার যেমন অন্ধ চোখে মহাকাব্য রচনা করেছিলেন, কবিও তেমনি প্রিয়জনের অনুপস্থিতিতে এক নিরেট আত্মায় পরিণত হন।

‘বর্তমানে নেই / অতীতে নেই / অচল তুমি ভবিষ্যতেও / শিরায় শিরায় বুনে চলেছি তোমার অনুপস্থিতি…’

প্রিয় মানুষটি নেই, অথচ তার মুখটিই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। ‘ক্ষণজন্মা মুখের মতো ঝরে যাচ্ছে আলো’—এই উপমাটি বাংলা কবিতায় এক নতুন মাত্রা যোগ করে। বিরহ এখানে কেবল মানসিক কষ্ট নয়, এটি এক ধরনের ইন্দ্রিয়গত শূন্যতা তৈরি করে।

একই সুর পাওয়া যায় ‘আলাপ-বন্দেগি শেষে’ কবিতায়। দুজন মানুষের সম্পর্কের চূড়ান্ত গন্তব্য যেন এক অবধারিত বিচ্ছেদ। ‘একটি বিন্দু থেকে ডানা মেলে দু’দিকে পৃথক পথ’। মানুষ আসলে কোথাও যায় না, কেবল যাওয়ার ছলনা করে। ‘যাওয়ার বাহানা দিনদিন পাথর হয়ে যায় / কত পাথর কত স্থবির নেশা’—আধুনিক নাগরিক জীবনে সম্পর্কের এই স্থবিরতা এবং বিচ্ছিন্নতাবোধ মুফিজের কলমে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে।

‘এত জাদুকর’ গ্রন্থে মৃত্যু এবং মানবজীবনের নশ্বরতা বারবার ফিরে এসেছে। প্যান্ডোরার বাক্সের মিথ ব্যবহার করে কবি জীবনের দুঃখ এবং আয়ুর সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করেছেন। ‘আমাদের আয়ু ধরে রাখে দুঃখের প্যান্ডোরা / শূন্য শূন্য জীবন শুধু নেশা নেশা লাগে’ (অগ্রন্থিত ৫)। জীবন যখন শূন্যতায় ভরে যায়, তখন স্মৃতিই হয়ে ওঠে একমাত্র ঐশ্বর্য—‘অতীতই পূর্ণাঙ্গ জীবন।’

পতঙ্গ সিরিজের খণ্ডাংশগুলোতে মানুষের আত্মা, প্রকৃতি এবং স্রষ্টার মধ্যকার এক রহস্যময় সম্পর্ক খোঁজার চেষ্টা আছে। ‘মানুষ পাহাড়ের নিচে বিছানা পাতে, শিয়ালমুখী গুল্মের নিচে তিলাওয়াত করে মহাসমুদ্র।’ এখানে প্রকৃতি এক অনন্ত শক্তি হিসেবে আবির্ভূত, যেখানে মানুষের আত্মা এক ‘তীর্থের সরোদ’-এর মতো বাজতে বাজতে লুকিয়ে যায় পাহাড়ের ঝোরাতে। বোরাক, ইস্রাফিলের ডানা, আদমের পাগড়ি—ইত্যাদি ইসলামি মিথোলজির সার্থক ব্যবহার করে কবি এক আধ্যাত্মিক আবহ তৈরি করেছেন, যেখানে চূড়ান্ত বিচারে ‘সকল প্রেমিকই তো একই হৃদয়ের সুফি।’

রহমান মুফিজের ভাষারীতি একই সাথে প্রাত্যহিক এবং ধ্রুপদী। তিনি একদিকে যেমন অতি আধুনিক নাগরিক শব্দ (ডিওডরেন্ট, ম্যানহোল, হেডফোন, ডেট, শাওয়ার, ফ্যালকন, সেমিট্রি) ব্যবহার করেছেন, অন্যদিকে তেমনি পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক শব্দবন্ধের (প্যান্ডোরার সিন্দুক, হোমারের চোখ, বোরাক, ইস্রাফিল, মিকেলেঞ্জেলো, পিয়েতা, হোমো ইরেক্টাস) সার্থক বুনন ঘটিয়েছেন। এই দুই বিপরীতধর্মী শব্দভাণ্ডারের মিথস্ক্রিয়ায় তাঁর কবিতা এক পরাবাস্তব আবহ তৈরি করে।

তাঁর উপমা নির্মাণ রীতি একেবারেই মেদহীন এবং ধারালো। ‘শস্যের ভ্রূণের চেয়ে ওরা আজিব কোলাহল’, ‘খুনির সহজ নাম নিয়ে হানা দেয় হাওয়া’, ‘বিহ্বল বসন্ত আসছে মৃত্যু খুঁড়ে খুঁড়ে’—এমন অজস্র চিত্রকল্প কবিতাগুচ্ছকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। কোনো অপ্রয়োজনীয় বর্ণনার ভারে কবিতাকে তিনি ন্যুব্জ হতে দেননি। প্রতিটি শব্দ এখানে পরিমিত এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিক্ষিপ্ত তীরের মতো অব্যর্থ।

‘এত জাদুকর’ নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক গভীর পরিহাস। এই জাদুকর কারা? যারা পৃথিবীতে যুদ্ধ বাধিয়ে শান্তির কথা বলে? যারা পুঁজিবাদী ফাঁদ পেতে মানুষের আত্মাকে কিনে নেয়? নাকি সেই রাষ্ট্রযন্ত্র, যা দিনের আলোতে অধিকার হরণ করে জাদুর মতো সব আড়াল করে রাখে? রহমান মুফিজ তাঁর কবিতায় এই সব জাদুকরদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন।

তাঁর কবিতা পড়ে মনে হয় না তিনি কেবল ছন্দ মেলানোর জন্য শব্দ সাজিয়েছেন। প্রতিটি কবিতা যেন তাঁর যাপিত জীবনের গভীরতম ক্ষত থেকে উঠে আসা এক একটি দীর্ঘশ্বাস এবং একই সাথে গগনবিদারী চিৎকার। ফিলিস্তিনের মৃত শিশু থেকে শুরু করে বাংলার রাজপথে বুলেটবিদ্ধ আবু সাইদ—সবাই তাঁর কবিতার আশ্রয়ে অমরত্ব পেয়েছে। আবার একই সাথে মধ্যরাতের একাকী ছাদ, হেডফোনের গান আর ফুরিয়ে যাওয়া ডিওডরেন্টের বোতল প্রমাণ করে তিনি আমাদেরই দৈনন্দিন জীবনের খুব কাছের এক নিবিড় পর্যবেক্ষক।

এত জাদুকর।। লেখক : রহমান মুফিজ।। প্রকাশক : জাগতিক।। প্রচ্ছদ : রাজীব দত্ত।। মূল্য : ২৫০

 


এই বিভাগের আরো খবর