প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে আমরা দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, দেশের মানুষ তার পক্ষে রায় দিয়েছে। কাজেই আমরা দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে সেই সকল প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দিয়েছি। আমি ছোটবেলায় থেকে দেখে এসেছি রাজনীতি মানে খাল খনন, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি। আমি ছোটবেলায থেকে দেখে এসেছি রাজনীতি মানে নতুন নতুন মিল-কলকারখানা তৈরি এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। আমি ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি রাজনীতি মানে মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করা। রাজনীতি মানে আমি দেখে এসেছি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এটাই হচ্ছে আমাদের রাজনীতি।
তিনি বলেন, আমি নির্বাচনের আগে সারা বাংলাদেশে যখন গিয়েছিলাম, আমি মা-বোনদের কাছে বলেছিলাম যে আমরা নির্বাচনে জয়যুক্ত হলে, সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে বাংলাদেশে ৪ কোটি পরিবার আছে, আমরা সকল পরিবারের মায়েদের কাছে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব। বিশেষ করে গ্রামেগঞ্জে বসবাসকারী খেটে খাওয়া মানুষ যারা আছে তাদের কাছে আমরা আগে পৌঁছে দেব। আল্লাহর রহমতে আল্লাহ আমাদেরকে তৌফিক দিয়েছেন, আল্লাহ আমাদেরকে রহমত দিয়েছেন। আমরা এই কাজটি সরকার গঠনের এক মাসের ভেতরে শুরু করেছি।
নারী শিক্ষায় নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তখন তিনি এই বাংলাদেশের মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ক্লাস ওয়ান থেকে ক্লাস টুয়েলভ পর্যন্ত ফ্রি করে দিয়েছিলেন। আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি মায়েদের, আমাদের এই দেশের নারীদেরকে যেমন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই, ঠিক একইভাবে আমরা চাই যে এই দেশের নারীরা একই সাথে শিক্ষার আরও সুযোগ পায়। সেইজন্য আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি যে আমরা ডিগ্রি বা স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা ব্যবস্থা অতিদ্রুত আমরা ফ্রি করে দেব। যাতে তাদের মেয়েদের লেখাপড়া করতে কোনো রকম খরচ না হয়। শুধু তাই নয়, মেয়েদের মধ্যে যারা ভালো রেজাল্ট করবে পরীক্ষায়, তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করবো।
অনুষ্ঠানে একজন ইপিজেডের দাবি সম্বলিত সাইনবোর্ড উঁচিয়ে ধরেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ইপিজেডের কাজ শুধু এই চাঁদপুর জেলা নয়, আপনাদেরই সন্তান এই এলাকার সন্তান আশিক চৌধুরী এখানে আছে, বিডার চেয়ারম্যান যাকে নিযুক্ত করা হয়েছে, তাকে আমি আজকে দায়িত্ব দিয়ে যাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব সবকিছু বিবেচনা করে সম্ভাব্যতা যাচাই করে এই ইপিজেডের কাজ যদি বাস্তবসম্মত হয়, তাহলে এখানে আমরা ইনশাআল্লাহ দ্রুত ইপিজেড করবো।
চব্বিশের আন্দোলনের চেতনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ৭১ সালে যেমন দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, আমরা ২৪ এর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছি। এখন হচ্ছে আমাদের দেশ গঠনের পালা, এখন হচ্ছে আমাদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের পালা।







