মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে বোরো চারা রোপণের ধুম, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ টন

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

রাজশাহী জেলার উপজেলাগুলোতে এখন চলছে বোরো রোপণের ধুম। ভোরের কুয়াশা মোড়ানো হালকা শীতকে উপেক্ষা করে লাঙল, জোয়াল আর আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা। বরেন্দ্রের দিগন্তজোড়া মাঠ এখন কচি ধানের সবুজ চারা রোপণের উৎসবে মাতোয়ারা। কৃষকদের এই হাড়ভাঙা খাটুনি আর মাটির গন্ধ মাখা স্বপ্নই বলে দিচ্ছে, এবারও রাজশাহীর গোলায় উঠতে যাচ্ছে রেকর্ড পরিমাণ সোনালি ধান।

চলতি মৌসুমে জেলার নয়টি উপজেলায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে বীজ তোলা এবং রোপণ করার কাজ। আর এই জমি থেকে ৩ লাখ ২৯ হাজার ৩০৩ টন ধান উৎপাদনের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলার ৯টি উপজেলা তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা, পবা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, বাঘা ও চারঘাট মিলিয়ে প্রায় ৬৮ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গত জানুয়ারি মাস থেকে শুরু হয়েছে শুরু হয়েছে বোরো রোপণ। তখন কনকনে  হাড় কাপানো শীত উপেক্ষা করেই শুরু হয় বোরো রোপণের কার্যক্রম। চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এ পর্যন্ত ২৭ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে বোরো রোপণ করা হয়েছে।

বিশেষ করে গোদাগাড়ী, তানোর, পবা ও মোহনপুর উপজেলার মাঠগুলো এখন কৃষকদের কর্মতৎপরতায় মুখর। কৃষকদের চোখেমুখে আগামীর স্বপ্ন।

পবা উপজেলার দারুশা এলাকার কৃষক মতিউর বলেন, বাপ-দাদার আমল থেকে চাষবাস করি। এবার শীতটা একটু বেশি ছিল, তাই বীজতলা তৈরি করতে ভয় লাগছিল। কিন্তু কৃষি অফিসের পরামর্শে পলিথিন দিয়ে ঢেকে চারাগুলো রক্ষা করেছি। এখন চারা বেশ শক্ত হয়েছে, আশা করছি ফলন ভালো হবে। তবে শুধু আশার কথা নয়, খরচের দুশ্চিন্তাও ভর করেছে অনেক কৃষকের মনে।

তানোর উপজেলার কৃষক সফিকুল ইসলাম জানান, সবকিছুর দাম বাড়ছে। ডিজেলের দাম আর সারের দাম বাড়ার কারণে এবার চাষের খরচ একটু বেশি পড়বে। আমরা যারা বর্গাচাষী, তাদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার যদি ধানের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করে, তবেই আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।

প্রযুক্তির ছোঁয়া ও উন্নত জাত :

এ বছর রাজশাহীর মাঠগুলোতে আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার বেড়েছে। কৃষকরা এখন ব্রি ধান-২৮ বা ২৯-এর পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ব্রি ধান-৮৯, ব্রি ধান-৯২ এবং জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০০ চাষে বেশি আগ্রহী।

গোদাগাড়ীর কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, আগে পুরনো জাতের ধান লাগাতাম, ফলন কম হতো। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নতুন জাতের বীজ লাগিয়েছি। খরচ আগের মতোই, কিন্তু ফলন কয়েক মণ বেশি হবে শুনছি। সেটাই এখন বড় ভরসা।

বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এবার বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ  নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছেন।  এছাড়া বাজারে যাতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় সেই ব্যাপারে সরকারের প্রতি লক্ষ্য রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন কৃষকরা।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মিতা সরকার বলেন, রাজশাহী জেলায় বোরো রোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তার প্রায় অর্ধেক জমিতে বোরো রোপণ করা সম্পন্ন হয়েছে।

আশা করছি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো রোপণ সম্পন্ন হবে। কৃষকরা যাতে ভালোভাবে আবাদ করতে পারেন সেই ব্যাপারে সরাসরি কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং উৎপাদন খরচ কমিয়ে কৃষকের লাভ নিশ্চিত করা।


এই বিভাগের আরো খবর