রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রীমা আবাসিক এলাকার নিজ বাড়ী থেকে মা কে মারধর এবং বাবাকে জিম্মি করে এক নারী ডাক্তারকে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ভোরে এই ঘটনার পর দিবাগত রাতে নগরীর চন্দ্রীমা থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। মামলায় আসামী করা হয়েছে তাদের পূর্ব পরিচিত তানভীর খান তাজ সহ ৬ জনকে। ঘটনার পর থেকে তৎপর হলেও গেল ২৪ ঘণ্টায় ভিকটিমকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। অপহৃত ডাক্তার চন্দ্রীমা আবাসিক এলাকার অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা আবু তাহির মোহম্মদ খুরশিদের মেয়ে ডেন্টাল ডাক্তার শাকিরা তাসনিম দোলা।
চিকিৎসক শাকিরার মা রেহেনা পারভীন ওরফে শিউলি জানান, ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য তার স্বামী বাইরের ফটকে তালা লাগিয়ে চাবি সঙ্গে নিয়ে মসজিদে যান। বাড়ী থেকে বের হওয়ার একটু পরই তালা খোলার শব্দ পেয়ে তিনি রুম থেকে বের হন। এ সময় অপহরণকারীরা তাকে ধরে দেয়ালের সঙ্গে মাথা ঠুকে দেয়। মাথায় তালা দিয়ে আঘাত করে। এরপর তারা তাকে বিছানায় ফেলে গলা চেপে ধরেন এবং মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যান।
রেহেনা পারভীন আরো জানান, অপহরণকারীরা তার মেয়ে ও স্বামীকে একটি মাইক্রোবাস তুলে নেয় এবং সিরাজগঞ্জ সলঙ্গা থানায় ভেংড়ি এলাকায় একটি নির্জন রাস্তায় হাত পা বাধা অবস্থায় ফেলে দেয়। পরে তার স্বামীর সাথে কথা বলে জানতে পারেন অপহরণকারীরা চালকসহ ছয়জন ছিলো। তার মেয়ে ও স্বামীকে মুখ বেধে মাইক্রোবাসে তোলার পরেই চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করা হয়।
রাজশাহী চন্দ্রিমা থানার ওসি মতিয়ার রহমান জানান, অপহরণের মূলহোতা তানভীর খান তাজ অপহৃত পরিবারে যাতায়াত ছিল। অভিযুক্ত তাজ ৪ বছর আগে নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট দাবী করে ওই নারী ডাক্তারকে নিয়ে প্রস্তাব পাঠায়। অপহৃত ডাক্তারের সাথে বিয়ের কথা ছিল। এরপর থেকে ওই পরিবারের সাথে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। কিন্তু কিছুদিন পরে জানতে পারেন হবু জামাই তাজ ম্যাজিস্ট্রেট নয়। এরপর থেকে তাজের সাথে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পুলিশ জানায় গেল ২৪ ঘণ্টায় অপহৃত ডাক্তারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।