বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন

রাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাটডাউন স্থগিত, শিক্ষকদের কর্মবিরতি চলছে

আপডেট : বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

‘প্রশাসনের অনুরোধে’ সাত দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে শাটডাউন কর্মসূচি স্থগিত করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে দুই দফা দাবি জানিয়ে এই ঘোষণা দেন অফিসার্স সমিতির সভাপতি মোক্তার হোসেন। তবে কর্মবিরতি কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাদের দুই দফা দাবি হলো– চলতি বছরের ২ জানুয়ারি ও  ২০ সেপ্টেম্বরে সংঘটিত ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা (পোষ্যকোটা) পুনর্বহাল করা।

মোক্তার হোসেন বলেন, শাটডাউন প্রত্যাহার করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এ বিষয়ে আমরা আজ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সাত কর্মদিবস সময় দিতে চাই। এই সময়ের মধ্যে আমাদের প্রাণের দাবি, সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত এবং আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা ফিরিয়ে দিতে হবে। অন্যথায় আমরা আরও কঠিনতর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো। সেই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সৃষ্টি হয়, তাহলে তার জন্য প্রশাসনকে এককভাবে দায়ী থাকতে হবে। ‘প্রশাসনের অনুরোধে আমরা আজ দুপুর ১টা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শাটডাউন কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করছি। দাবি আদায় নাহলে সাত দিন পরে আমরা আবার কর্মসূচিতে ফেরত যাবো।’

এদিকে, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মসূচি স্থগিত করলেও শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগে কর্মবিরতি কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের শিক্ষকরা। এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জানান, রাবিতে চলমান কর্মবিরতি কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে সব স্তরের শিক্ষকরাও ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখেছেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত রাকসু নির্বাচন নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল ক্যাম্পাসে। প্রার্থীরা নানা কৌশলে প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। এর মধ্যে সেদিন সন্ধ্যায় বাতিল হয়ে যাওয়া পোষ্য কোটা ১০ শর্তে ফিরিয়ে আনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর পর থেকে পোষ্য কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের এক পর্যায়ে শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে রবিবার শিক্ষক-কর্মকর্তারা লাঞ্ছিতকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও পোষ্য কোটা পুনর্বহালের দাবিতে একদিনের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। গতকাল থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করেন।

২১ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জুবেরী ভবনে সভা শেষে লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা দেন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল আলীম। অফিসার সমিতি সংবাদ সম্মেলন করে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ ঘোষণা দেন। এমন পরিস্থিতিতে সোমবার বিকাল ৫টায় রাকসু নির্বাচন কমিশনার জরুরি সভা করে নির্বাচনের তারিখ পেছান। সভায় আগামী ১৬ অক্টোবর ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।


এই বিভাগের আরো খবর