প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমাদের মতপার্থক্য ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক আস্থা এবং পারস্পরিক স্বার্থের সত্যিকারের অভিন্ন মনোভাব প্রয়োজন। আমরা সম্মিলিতভাবে যাই করি না কেন, আমাদের প্রভাব এবং ফলাফল দ্বারা পরিচালিত হওয়া দরকার। চতুর্থ দশকের দিকে এগিয়ে এসে আমাদের বিমসটেকের আওতায় আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় আবিষ্কার করতে হবে।
তিনি আর বলেন, পঞ্চম বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে আমরা পরিবহন সংযোগ বিষয়ে বিমসটেক মাস্টার প্ল্যান গ্রহণ করেছি। এর সময়োপযোগী বাস্তবায়ন আমাদের দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিছু দেশ দ্বিপক্ষীয়ভাবে অনেক কিছু অর্জন করেছে। কার্যকর আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংহতি ও উন্নয়নের সুফল পেতে হলে আঞ্চলিক ব্যবস্থা নিতে হবে। মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান না হলে পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। বিমসটেক অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিশেষ করে রাখাইনে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব নিরসনে সংলাপকে উৎসাহিত করতে পারে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশের জন্য রাখাইনে স্থিতিশীলতা আনতে মিয়ানমারকে সম্পৃক্ত করতে আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। রাখাইন রাজ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে, রাখাইনে আসন্ন দুর্ভিক্ষের বিষয়ে ইউএনডিপির সতর্কতার মধ্যে, রাখাইন থেকে আরও বাস্তুচ্যুতি বন্ধ করতে জনগণকে মৌলিক প্রয়োজনীয়তা সরবরাহের জন্য রাখাইনে একটি মানবিক চ্যানেল প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এই বছরের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনে বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর অর্থবহ অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করে। সম্মেলনে বিমসটেক সদস্য দেশগুলোর উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গত ১৩-১৬ মার্চ বাংলাদেশে ঐতিহাসিক সফর করেন। তিনি রোহিঙ্গাদের মর্যাদা ও সুরক্ষার সঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার অধিকারের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।







