অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রচলিত বিধান অনুযায়ী, রাজনৈতিক সরকারের অর্থমন্ত্রীরা সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন। রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় না থাকায় এ বছর সেটি হওয়ার সুযোগ নাই। জাতীয় সংসদ নাই। এ কারণে আগামী বাজেট উপস্থাপন করা হবে টেলিভিশনের পর্দায়। উপস্থাপন করবেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে এ বাজেট ঘোষণা করা হবে। জুনের শুরুতেই মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা রয়েছে। সে কারণে প্রথম সপ্তাহে নতুন বাজেট ঘোষণা হতে পারে।
সূত্র জানিয়েছে, এক বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। সে কারণে আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা থাকবে বলে জানা গেছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশের মতো। আগামী অর্থবছরেও বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৫ শতাংশের নিচেই রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর গত ৬ মাসে এডিপি খাতে খরচ হয়েছে মাত্র ৪০ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। নভেম্বর পর্যন্ত ৫ মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদায় করতে পেরেছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫ কোটি টাকা। অথচ এবছর ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। রাজস্ব আদায় বাড়াতেই গত ৯ জানুয়ারি শতাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট-শুল্ক বাড়িয়েছে সরকার।
উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২৫ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার মূল বাজেট ঘোষণা করেছিলেন শেখ হাসিনা সরকারের অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। পরে তা সংশোধন করে সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকার মধ্যে সীমিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা করা হয়েছিল।
জানতে চাইলে অর্থ সচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার জানিয়েছেন, অর্থ উপদেষ্টার বাজেট বক্তব্য লেখার কাজ শুরু হয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্জনগুলোও থাকতে হবে। এ বছর উপদেষ্টার বাজেট বক্তব্য হবে ছোট। বর্তমান সরকারের সংস্কার কার্যক্রমসহ গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলো যাতে বাজেট বক্তব্যে তুলে ধরা যায়, সে ধরনের তথ্য অর্থ বিভাগে পাঠাতে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, নানা কারণে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নতুন বাজেট ছোট করতে হচ্ছে। নতুন করে বড় কোনও প্রকল্প নেওয়া হবে না। যেসব বড় প্রকল্প আছে, সেগুলোতে অর্থায়ন চলবে। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ছোট হবে।
তিনি জানান, আসছে বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে কর্মসংস্থান বাড়ানো বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আগামী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সংক্ষিপ্ত আকারে ৫০-৬০ পৃষ্ঠার বক্তব্য হবে। আসছে অর্থবছরে ব্যবসাবান্ধব কর ব্যবস্থাপনার চেষ্টা থাকবে। সরকার বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট করতে চায়। যেখানে পরবর্তী সরকারের জন্য একটা ফুট প্রিন্ট রেখে যেতে চাই। সরকার মুখরোচক কিছু করতে চায় না।
অর্থ উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বাজেট বাস্তবায়ন না হলে অর্থবছর শেষে সমালোচনা করা যাবে।







