বাংলাদেশ যদি ভারতে গিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অবশ্য ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আইসিসি এই ব্যাপারে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। স্কটিশ ক্রিকেটের কর্মকর্তারাও আপাতত আইসিসির সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথা বলেনি।
মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল সংক্রান্ত বিতর্কের পর থেকেই বাংলাদেশ ভারতে ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমাধান আসেনি। মুস্তাফিজ–আইপিএল ইস্যুর পর উদ্ভূত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বিসিবি ভারতে সফর করতে অস্বীকৃতি জানায়।
এ সময় বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তার মন্তব্য ঘিরে বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন ক্রিকেটারের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজন বোর্ড কর্মকর্তাকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরে তাকে পদ ছাড়তে হয়। এর ফলে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে জল্পনা আরও বেড়ে যায়।

চলমান পরিস্থিতিতে কয়েকটি সম্ভাব্য পথ সামনে আসতে পারে।
প্রথমত, ক্রিকেটের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিসিবি আইসিসির শর্ত মেনে নিয়ে ভারতে খেলতে সম্মত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে কলকাতাসহ নির্দিষ্ট কিছু ভেন্যু নিয়ে সমঝোতার সুযোগ থাকতে পারে।
দ্বিতীয়ত, আইসিসি যদি বিসিবির দাবিতে অনড় না থাকে, তাহলে তারা বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে ওয়াকওভার দিয়ে পয়েন্ট দেওয়ার নজির রয়েছে। ১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত কারণে শ্রীলঙ্কায় যেতে অস্বীকৃতি জানালে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তৃতীয়ত, গ্রুপ পরিবর্তনের দাবি মেনে নিতে পারে আইসিসি। বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ সি-তে, যেখানে সব ম্যাচ ভারতের ভেন্যুতে। বিসিবির দাবি, তাদের গ্রুপ বি-তে নেওয়া হোক, যেখানে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে সে ক্ষেত্রে গ্রুপ বি থেকে কোন দলকে সরানো হবে, সেটি সহজ সিদ্ধান্ত হবে না।
গ্রুপ সি: বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ
গ্রুপ বি: অস্ট্রেলিয়া, আয়ারল্যান্ড, ওমান, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে
গ্রুপ এ: ভারত, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র
গ্রুপ ডি: আফগানিস্তান, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত