সেবা পেতে জনগণের ভোগান্তি লাঘবের জন্য হলেও জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।তবে এটা একান্তই তার ‘ব্যক্তিগত’ মত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেছেন, সরকারই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।মঙ্গলবার দুপুরে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের একটি অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সাংবাদিকরা জানতে চান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের আগে হওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কি না।
“একজন কর্মকর্তার যখন দুই-তিনটা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, তখন একজনের পক্ষে কোনোটাই ঠিকভাবে পালন করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সেই জায়গা থেকে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার মাধ্যমে সেখানে প্রকৃত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আসা উচিত।”
স্থানীয় সরকার উপদেষ্টার যুক্তি, ভালো জাতীয় নির্বচন করার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে, যদি স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকে। তাতে জনগণের দুর্ভোগও কমবে।তিনি বলেন, “সবার আগে জনগণ। স্থানীয় পর্যায়ে সেবা পেতে ঘুরতে হয় জনগণকে। একজন সরকারি কর্মকর্তা যতই হোক, একটা ওয়ার্ডের দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। সেখানকার মানুষগুলোকে চেনেন না তারা, রাস্তাঘাটও চেনেন না।“আমি মনে করি, জনগণের কথা বিবেচনা করে, জনগণের সেবায় যেন বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য স্থানীয় নির্বাচনটা হওয়া উচিত।”
কোন নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে সর্বশেষ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায় আলোচনা হয়েছে বলে জানান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।তিনি বলেন, “আলোচনা এখনো চলমান আছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে হয়নি। তবে খুব দ্রুতই কোনো একটা সিদ্ধান্ত আসবে, হয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচন অথবা প্রশাসক (পূর্ণকালীন) নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের সংস্থাগুলো পরিচালনা করা হবে।”
জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিলে সেটা ভালো হবে কি না– সেই প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অবশ্যই ভালো হয়। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত চিন্তা দিয়ে তো আর সিদ্ধান্ত হবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে আসবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে ফিজিবিলিটির বিষয়ও রয়েছে। আমরা কতটুকু আয়োজন করতে পারব। অনেকগুলো বিষয় রযেছে। সরকারের আইন শৃঙ্খলার বিষয় রযেছে। প্রথমত হচ্ছে ডিসিশনটা চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। চূড়ান্ত হলে বাকি বিষয়গুলো দেখা যাবে।”