বিচারকের ছেলের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লিমন মিয়ার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করায় আদালতে উপস্থিত হয়ে ব্যাখা দিয়েছেন রাজশাহীর পুলিশ কমিশনার। একই সাথে আদালতের বিবিধ মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন করেছেন। আদালত এবিষয়ে আগামী পহেলা ডিসেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছে।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলী আশরাফ মাসুম জানান, রাজশাহীতে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবদুর রহমানের ছেলের হত্যাকাণ্ড ও স্ত্রীকে আহত করার ঘটনায় হেফাজতে থাকা অবস্থায় লিমন মিয়ার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করায় রাজশাহীর পুলিশ কমিশনারকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সে নির্দেশনা মোতাবেক ধার্য্য দিনে বুধবার সকাল দশটার কিছু আগে রাজশাহী মেট্রোপলিটন আদালত-৫ এ হাজির হন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান৷ ১৫ মিনিট ধরে শুনানি হয়। পুলিশ কমিশনারের আইনজীবী আদালতকে অবহিত করেন, এঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয় আদালতে। এছাড়া, আদালতে চলমান বিবিধ মামলা থেকে পুলিশ কমিশনারকে অব্যাহতির জন্য আবেদন করেন।মেট্রোপলিটন আদালত-৫ এর বিচারক আশিকুর রহমান শুনানী শেষে আগামী পহেলা ডিসেম্বর আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেন।
এর আগে ১৫ নভেম্বর পুলিশ কমিশনারকে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
গত ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নগরীর রাজপাড়া থানার ডাবতলায় এলাকায় বিচারকের ভাড়া ফ্লাটে অভিযুক্ত লিমন মিয়া কৌশলে প্রবেশ করে তার নাবালক পুত্র তাওসিফ রহমানকে ধারালো ছুরি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত ও শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এবং তার স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত লিমন মিয়াকে পুলিশ আটক করে এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অভিযুক্ত লিমন মিয়া পুলিশি হেফাজতে থাকাবস্থায় মিডিয়ায় ভিকটিমকে দোষারোপ করে বক্তব্য প্রদান করে। যা আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বনাম রাষ্ট্র ৩৯ বিএলডি ৪৭০ সহ বিভিন্ন মামলায় প্রদত্ত সুপ্রিম কোর্ট এর নির্দেশনার সুস্পষ্ট লংঘন।