ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (ভারতীয় সময়) সমাজমাধ্যমে ঘোষণা করেছিলেন, রাতেই জোরদার হামলা হবে ইরানে। এমনকি, ভেনেজ়ুয়েলার মতো ইরানের তেলের ভান্ডারও আমেরিকা দখল করে নেবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই মত বদলেছেন। জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বোঝাপড়া চূড়ান্ত হয়েছে। তাই আপাতত আর হামলা হচ্ছে না। কেন আচমকা এই মতবদল? মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিকিটো সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই রাতারাতি মতবদলের নেপথ্যে রয়েছে তিনটি ফোন।
ইজ়রায়েলি সূত্র উল্লেখ করে রিপোর্টে দাবি, আপাতত শুধু হরমুজ় প্রণালী খুলে দেওয়া এবং মার্কিন অবরোধ তোলার বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে আরও অনেক সময় লাগবে। উভয় পক্ষই সে বিষয়ে একমত। তা ছাড়া, মোজতবার অবস্থান নিয়েও জল্পনা রয়েছে। তাঁকে এখনও প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। মার্কিন রিপোর্ট দাবি করছে, আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ আঘাতে তিনি এতটাই গুরুতর ভাবে জখম হয়েছেন যে, মাটির নীচের কোনও এক বাঙ্কারে রয়েছেন। প্রযুক্তির ছোঁয়া সেখানে নেই। তাঁর স্বাক্ষর ছাড়া ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাত থামাতে প্রথম থেকেই মধ্যস্থতাকারী হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান। একাধিক বার সে দেশের শীর্ষ নেতারা ইরান গিয়েছেন। যোগাযোগ করেছেন আমেরিকার সঙ্গে। এমনকি, পাকিস্তানে দুই দেশের নেতাদের মুখোমুখি বসিয়ে আলোচনার আয়োজনও করা হয়েছিল। দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়। পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট এখনও কাটেনি। হরমুজ়ে একের পর এক পণ্যবাহী জাহাজের উপর হামলা চলছে। অবিলম্বে সেখানে শান্তিস্থাপন এবং কূটনৈতিক পদ্ধতিতে সংঘাত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ভারতও।