গত বছরই তাদের বাড়িভর্তি মানুষ ছিল। কেউ ঈদ সেলামি দিতে আসছেন। কেউ নিতে। কেউবা আবার ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে করতে আসছেন। অথচ বছর না ঘুরতেই আজ তারা কারাগারে আসামি হিসেবে ঈদ পালন করছেন। মন্ত্রী, এমপি এবং নেতা নানা পদ-পদবি আর কতই না দাপট ছিল তাদের। অথচ এখন তাদের হাতে হাতকড়া। পিছমোড়া দিয়ে তাদের তোলা হচ্ছে আদালতে।ঠিক ধরেছেন। বলছি, পতিত সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের কথা। একসময়ের দোর্দণ্ড দাপুটে এই নেতারা এখন বড্ড অসহায়। তাদের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। কী ছিল না তার? অর্থবিত্ত বা ক্ষমতা! এখন সবই হাতছাড়া। তিনিও ঈদ করছেন কারাগারে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের ভাই ভাই। মিলে-মিশে থাকা উচিত। আমরা একসঙ্গে থাকবো। কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো? আশা করছি, এ পরিবেশ থাকবে না।’ তার এ কথার মধ্যেই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা চিৎকার শুরু করেন। তারা বলতে শুরু করেন, তিনি (আমু) ভয় দেখাচ্ছেন। তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তাদের শান্ত করেন। পরে আমু বলেন, ‘আমরা যার যার পক্ষ অবলম্বন করবো। নিজেরা নিজেরা কেন দ্বন্দ্বে জড়াবো।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, শাজাহান খান, কাজী জাফরউল্লাহ, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনিরও ঈদ কাটছে কারাগারে। একেকজন একেকটা আসনে ধরাকে সরা জ্ঞান করলেও এখন তাদের অসহায়ত্বে কেউ পাশে নেই।
‘রাজনীতি থেকে ইস্তফা দিলাম। আমি আওয়ামী লীগের কোনো পদে নেই। এখন থেকে প্রাথমিক সদস্য পথ থেকেও পদত্যাগ করলাম। একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। একের পর এক নির্যাতন করা হচ্ছে। এই বয়সে আমার ওপর জুলুম চালানো হচ্ছে। আল্লাহকে ডাক দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই’- বলেন ঢাকার রাজনীতির এই প্রভাবশালী নেতা।
এর বাইরে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, সাবেক এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমসহ দলটির জেলা-উপজেলা পর্যায়ের অসংখ্য নেতা এবছর কারাগারে ঈদ করছেন।