সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু ১৪ মার্চ, সময়সূচি প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬

২০২৭ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামী ১৪ মার্চ থেকে শুরু হবে। বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্রের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ এপ্রিল। পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হবে। সোমবার (২৪ আগস্ট) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তা অনুমোদন করেছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি সোমবার বিকেলে বলেন, ‘১৪ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে এপ্রিলে শেষ হবে।’

চূড়ান্ত সময়সূচি অনুযায়ী, ১৪ মার্চ বাংলা প্রথম পত্র, ১৬ মার্চ বাংলা দ্বিতীয় পত্র, ১৮ মার্চ ইংরেজি প্রথম পত্র এবং ২১ মার্চ ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হবে। আবশ্যিক গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৫ মার্চ।

তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ২২ এপ্রিলের মধ্যে সব বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করে নম্বর অনলাইনে পাঠাতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা প্রতিদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষার্থীদের নিজ নিজ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। সংগীত বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের নিজ খরচে প্রয়োজনীয় বাদ্যযন্ত্র ও শনাক্তকারী শিক্ষকসহ নির্ধারিত পরীক্ষার দিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষায় মূল উত্তরপত্রের পরিবর্তে পৃথক ব্যবহারিক খাতা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৩০ মিনিট আগে হলে আসন নিতে হবে

পরীক্ষা শুরুর অন্তত সাত দিন আগে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে হবে।

কেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ

পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তি বা পরীক্ষার্থী পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন আনতে বা ব্যবহার করতে পারবেন না। পরীক্ষার্থীরা বোর্ড অনুমোদিত সাধারণ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারবেন।

পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সাত দিনের মধ্যে ফল পুনঃনিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। এ বিষয়ে বোর্ডের ওয়েবসাইট ও সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

জানুয়ারির সিদ্ধান্ত থেকে সরে মার্চে পরীক্ষা

এর আগে আগামী বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। গত ১৪ মে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বছরের শুরুতেই পরীক্ষা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরে এ সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

গত ২ জুন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন হলে ৭ জানুয়ারি থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।

এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত এবং পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরীক্ষা মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে পবিত্র রমজান শুরু হতে পারে। সে হিসাবে রমজান শেষে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঈদুল ফিতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশের আশঙ্কা ছিল, জানুয়ারিতে পরীক্ষা শুরু হলে প্রায় ২০ লাখ পরীক্ষার্থী প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবে না। কারণ, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে তারা আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রমে পড়লেও নবম ও দশম শ্রেণিতে ২০১০ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেছে। এর মধ্যে নবম শ্রেণিতে বই পেতে দেরি হওয়ায় তাদের পাঠ্যক্রম শেষ করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাড়তি সময় প্রয়োজন ছিল।

আগের ধারায় ফিরছে পরীক্ষার সময়

এক সময় ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমান এবং এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা আয়োজনের রীতি ছিল। তবে করোনাভাইরাস মহামারি এবং পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের কারণে শিক্ষাপঞ্জিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এর ফলে পরীক্ষা আয়োজনের সময়ও পিছিয়ে যায়।

চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা এপ্রিলে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুলাইয়ে শুরু হয়েছে। আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা মার্চে নেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে ধীরে ধীরে পরীক্ষার সময়সূচি আগের ধারায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগেরই ইঙ্গিত মিলছে।


এই বিভাগের আরো খবর