বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষকদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিরোধীদলীয় নেতা কৃষকদের সমস্যার কথা বলেছেন। আমি তাকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমাদের নির্বাচনি মেনিফেস্টো অনুযায়ী আমরা ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু করেছি। শুধু ধানচাষি নয়, মৎস্য ও গবাদি পশু পালনকারীসহ সব পর্যায়ের কৃষকের কাছে আমরা পর্যায়ক্রমে পৌঁছাবো। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের রহমতে কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ এই সংসদ ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শুরু করেছে।”
নারীশিক্ষার প্রসারে সরকারের বিশেষ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারীকে পেছনে রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীশিক্ষা অবৈতনিক করেছিলাম। বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা অবৈতনিক করা হবে। পাশাপাশি মেধাবীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে। এছাড়া আমরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছি, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন এত টাকা কীভাবে আসবে? আমি বলবো, এটি ইনভেস্টমেন্ট— এর রিটার্ন গ্রামীণ অর্থনীতির মাধ্যমে ফিরে আসবে।”
দেশের সাম্প্রতিক বন্যা ও জলবদ্ধতা নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “চট্টগ্রামের জলবদ্ধতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে সেখানে পাঠিয়েছি। নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বর্ষণে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ত্রাণমন্ত্রীকে গতকালই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে দুই দিন আগেই বলা হয়েছিল তালিকা তৈরি করে কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে। এটিই প্রমাণ করে এই সরকার জনগণের সরকার।”
বিরোধী দলের গঠনমূলক প্রস্তাবের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জ্বালানি সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে বিরোধী দলের দেওয়া প্রস্তাব আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি। উভয়পক্ষ মিলে যৌথকমিটি গঠন করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, একসঙ্গে বসে আলোচনা করলে দেশের মানুষের স্বস্তির জন্য যেকোনও সমস্যার সমাধান বের করা সম্ভব। তিনি বিরোধী দলের নেতা ও উপনেতাকে তাদের এলাকার সমস্যার তালিকা পাঠানোর অনুরোধ করেন এবং তা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। দেশের মানুষের জন্য এবং সুন্দর আগামীর জন্য এই সংসদ কাজ করে যাবে।”
রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা ও প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য এই দুটিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলের সহযোগিতা চেয়ে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিতে চান।







