অলি আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশকে অশান্ত করার জন্য ভারত নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় কাদের সিদ্দিকীসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী ভারতে আশ্রয় নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত বর্ডার অস্থিতিশীল করেছিল। এটাকে ঠিক করতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী খুব ভালো লোক ছিলেন। ভদ্র লোক ছিলেন। উনি এই সমস্যা নিজেই সমাধান করেছিলেন। কিন্তু এখন ভালো লোক, ভদ্রলোক ভারতের ক্ষমতায় নেই। বিদেশি দালালদের কারণে আমরা গত ১৯ বছর অনেক কষ্ট পেয়েছি। এই দালালদের চিহ্নিত করতে হবে। তাদের হাত-পা ভেঙে দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখানে দেখতে হবে শুভেন্দু অধিকারীর কোনও ফলোয়ার আছে কিনা। এই গরুটা ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছে- যুদ্ধ ঘোষণা করবে, বাংলাদেশ দখল করে নেবে। এটা তোমার বাপের দেশ তুমি দখল করে নিবা? আর আমরা যদি বলি- আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, সেভেন সিস্টার্স সব দখল করে নেবো, তখন কী বলবা? আমরা তো সেটা বলছি না। আমরা বলি আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও। তুমি তোমার ঘরে শান্তিতে থাকো। তোমার ব্যাপারে আমরা কোনও হস্তক্ষেপ করবো না, এটা তোমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। কিন্তু তোমরা প্রতিনিয়ত আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে যাচ্ছো।’
অলি আহমদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে বুঝতে হবে, তিনি বেকার সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন। প্রতিবেশী ভারতকে কীভাবে সামাল দেবেন। তার দলের লোকজন যে চাঁদাবাজি করছে, সে কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এই চাঁদবাজদের তালিকা করে ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা কোনও সমস্যা করছি না। গত ৫০ বছরে আমরা যে সমস্ত ভুল সংবিধানে, প্রশাসনে দেখেছি সেগুলো ঠিক করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।’
দেশের নানা সংকটের কথা তুলে ধরে এলডিপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ। যে সমস্ত বড় বড় প্রতিষ্ঠান আছে, তারাও নিজেদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে। তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় যাবে? দেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জনগণ দুঃসহ জীবনযাপন করছে। পত্রিকা খুললেই দেখবেন প্রতিনিয়ত হত্যাকাণ্ড ঘটছে। মানুষের মনে যখন অশান্তি হয়, মানুষ যখন সমস্যায় জর্জরিত হয়, সে তখন আর ডান-বাম দেখে না।’
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।