মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

রাকসুর তহবিলের টাকায় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী : ভিপি জাহিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫

‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ দাবি করেছেন, আমরা এটা জেনে খুবই কষ্ট পেয়েছি যে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী পালনের পুরো টাকা রাকসুর তহবিল থেকে খরচ করা হয়েছিল। এই তথ্যটা আপনাদের দিলাম; ব্যাপারটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখজনক। শুধু এটিই নয়, এরকম নানা কাজে রাকসুর তহবিল থেকে টাকা খরচ করা হয়েছে। এই টাকা দ্রুত রাকসুর ফান্ডে ফেরত দিলে, আমাদের কাজ করতে সুবিধা হয়। বুধবার (৫ নভেম্বর) রাকসু ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ভিপি জাহিদ। রাকসু ভিপি বলেন, নবনির্বাচিত প্রতিনিধিরা দায়িত্ব গ্রহণ করলেও বুঝে পাননি ফান্ডের পূর্ণাঙ্গ হিসাব। ২০১৩ সালের আগ থেকে ২২ বছরের ফান্ডের হদিস নেই প্রশাসনের কাছে। কেন হদিস নেই, এমন প্রশ্নে গা-ছাড়া প্রশাসন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির। তিনি বলেন, শপথ গ্রহণের পর গতকাল রাকসু প্রথম কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো রাকসুর তহবিলকে ব্যবহার উপযোগী করা।
প্রথম অধিবেশনে বিগত বছরগুলোর ব্যয়ের অডিটসহ রাকসু তহবিলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট জানতে পারব, এমন আশা করেছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাকসুর বর্তমান সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ আমাদের সে তথ্য দিতে পারেননি। আপনারা জানেন, দীর্ঘ ৩৬ বছর রাকসু অকার্যকর থাকলেও নিয়মিতভাবে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
বিগত বছরগুলোতে রাকসুর সভাপতি এবং কোষাধ্যক্ষ ইচ্ছেমতো রাকসু তহবিলের অর্থ অনিয়মিতভাবে বিভিন্ন খাতে ব্যয় করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। গতকালের অধিবেশনে এ অর্থ ‘কে কোথায় কীভাবে ব্যয় করেছেন এবং কীভাবে ফেরত আনা যায়’ এ সম্পর্কিত কমিটি গঠিত হয়েছে। তারা ১৫ তারিখের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করবেন। তারা কমিটির ওপর আস্থা রাখতে চান বলে জানিয়েছেন।
এসময় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘২০১৩ সালের পর থেকে ব্যাংক স্টেটমেন্ট আছে এবং ২০২১ সাল থেকে অনলাইন হিসাব আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ১৯৯০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত প্রায় ২২ বছরের হিসাব নেই।’ আম্মার আরো বলেন, ‘এর আগে ৩ মেয়াদে তারা টাকা নিয়েছে, যার কোনো ধরনের হদিস নেই। যেহেতু ফান্ডের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, আমরা আশা করছি।খুব শিগগিরই সমস্যাগুলোর সমাধান হয়ে যাবে।’
উল্লেখ্য, ১৯৮৯-৮৯ সেশনর রাকসুর ১৪তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ৩৫ বছর বন্ধের পর গত ১৬ অক্টোবর ১৫তম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


এই বিভাগের আরো খবর