রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন

জাতীয় নির্বাচনের আদলে বিএনপির নেতা নির্বাচন মোহনপুরে

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : রবিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৪

রাজশাহী মোহনপুর স্কুলের মাঠে প্রবেশ করলে মনে হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মাঠের চারিদিকে প্রার্থীদের ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টার ঝুলছে। কর্মী সমর্থকরা বুকে ব্যাচ লাগিয়ে প্রার্থীর পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছেন। মিছিল নিয়ে রাস্তা ও মাঠে সোডাউন দিচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। এটি মোহনপুর উপজেলার বিএনপির নেতা নির্বাচনের ভোট হলেও জাতীয় নির্বাচনের আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি বুথ গুলোতে রয়েছে প্রিজাইডিং ও পুলিং অফিসার। আছে প্রার্থীদের পুলিং এজেন্ট। কাউন্সিলররা ভোট দেয়ার আগে পরিচয় নিশ্চিত হচ্ছে প্রাথীদের এজেন্টরা। এরপর হাতে আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি দেয়ার পরই মিলছে ব্যালট পেপার।


বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন প্রায় ২০ বছর পর সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোট বিএনপির নেতা নির্বাচন হচ্ছে। ঢাকা থেকে ভোট দেখতে এসেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।
রাজশাহী মোহনপুর উপজেলা বিএনপি নেতা নির্বাচনে সভাপতি পদে ২জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বতা করছেন। প্রার্থীরা হলেন, সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যপক আব্দুস সামাদ। তিনি প্রতিক পেয়েছেন আনারস মার্কা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শামিমুল ইসলাম ইসলাম মুন। তিনি প্রতিক পেয়েছেন রিক্সা মার্কা।

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও বাকশিমইল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ। তিনি প্রতিক পেয়েছেন ছাতা মার্কা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ধুরইল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন। তিনি প্রতিক পেয়েছেন চেয়ার মার্কা। আরেকজন প্রার্থী বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম শাহ্ রুপুল। তিনি প্রতিক পেয়েছেন আম, আরেকজন প্রার্থী মোহনপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের জিএস ও সাবেক যুবদল নেতা আবুল কালাম আজাদ। তিনি প্রতিক পেয়েছেন ফুটবল মার্কা।

সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বাচ্চু রহমান। তিনি প্রতিক পেয়েছেন মাছ মার্কা। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য শাহিন আক্তার শামসুজ্জোহা। তিনি প্রতিক পেয়েছেন ঘোড়া মার্কা। আরো প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট মিজানুর রহমান মিলন। তিনি প্রতিক পেয়েছেন কলম মার্কা। একই পদে প্রার্থী হয়েছেন মৌপাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম। তিনি প্রতিক পেয়েছেন হাতি মার্কা। প্রার্থী হয়েছেন রায়ঘাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি প্রভাষক মকলেসুর রহমান। তিনি প্রতিক পেয়েছেন টিয়া পাখি মার্কা।৬টি ইউনিয়নের মোট ৪২৬জন কাউন্সিলর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।মোহনপুর উপজেলা বিএনপির দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া।নির্বাচন কমিশনার রাজশাহী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক ভিপি ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য তাজমুলতান টুটুল ও জেলা বিএনপির সদস্য সদর আলী।

এদিকে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মোহনপুর স্কুল মাঠে স্থানীয় বিএনপির আয়োজন কর্মী সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের পর পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা করেন প্রধান অতিথি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। এসময় তার সাথে ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত খালেক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পরিবেশ বিষয়ক সহ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার।

 

 

 

 

 

 

 


এই বিভাগের আরো খবর