মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল সোমবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কথা জানাতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি মাঝেমধ্যে অবাক হই, এরকম একটা ক্রিটিক্যাল মুহূর্তে জাতীয় নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনও নির্বাচনের কথা আসে কী করে? এছাড়া নির্বাচন পেছানোর বিষয়ে আলোচনা হয় কী করে?’
‘আমরা মনে করি, যেহেতু নির্বাচন কমিশন গঠন হয়ে গেছে এবং মোটামুটি একটা স্ট্যাবেলিটি এসেছে গভর্নেন্সের মধ্যে…। সেই ক্ষেত্রে এই নির্বাচন (জাতীয় নির্বাচন) অনুষ্ঠানের জন্য মনে হয়, এই মাসে আগামীকাল সংস্কার সংক্রান্ত কমিশনের রিপোর্ট এসে যাবে। সুতরাং মনে হয় না, আরও বিলম্বিত করার কোনও কারণ আছে। যত বিলম্ব হচ্ছে ততই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রশ্নই ওঠে না। আমরা আগে সংসদ নির্বাচন চাই।’এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের বিষয়ে আমাদের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত হচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের কোনও প্রশ্নই আসে না। কারণ এখন তো ফোকাসটা পুরো দেশের পুরো জাতির হচ্ছে এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপরে।’
‘ক্রাইসিসটা ওই জায়গায়…গত তিনটা জাতীয় নির্বাচন হতে পারেনি, সেজন্য মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্র উত্তরণের পথ; সেটাকে তারা পূরণ করতে চায়। আপনাদের বুঝতে হবে, লোকাল গভর্নমেন্ট দেশ চালায় না। দেশ চালায় কিন্তু জাতীয় সংসদ, আইন প্রণয়ন করে জাতীয় সংসদ, গণতন্ত্রের মূল বিষয়টা হচ্ছে জাতীয় সংসদ… এটা কার্য্কর হলে গণতন্ত্র ফাংশনাল হয়।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, ‘লোকাল গভর্নমেন্টের তৃণমূল স্তর হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। সেই ইউনিয়ন পরিষদই তো সরকার বাতিলই করেনি। সেটা যদি বাতিল না করে, সেখানে কীভাবে লোকাল গভর্নমেন্ট নির্বাচন হবে?’মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য কতগুলো ফরমালিটিজ আছে; যেমন— ভোটার লিস্ট… এই ভোটার লিস্ট রেডি… ভোটার লিস্টে বেশি দিন লাগার কথা নয়…। চাইলে এক মাসের মধ্যেই সেটা করতে পারবে। এরপরে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগসহ বিভিন্ন কাজ এক-দুই মাসের বেশি সময় লাগার কথা না। সবই তো তৈরি।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন বলেছে, নির্বাচন করার জন্য তারা রেডি এবং তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার জন্য তৈরি আছে। তারা পরিষ্কার করে এও বলে দিয়েছে যে, দুইটা নির্বাচন একসঙ্গে সম্ভব না। সুতরাং এটা জাতির স্বার্থে প্রয়োজন এই নির্বাচনটা (সংসদ নির্বাচন)।’মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এরকম ক্রিটিক্যাল সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া অন্য নির্বাচন করার চিন্তাটা আসে কোত্থেকে? নির্বাচন পেছানোর চিন্তাটাই বা আসে কোত্থেকে? কারণ এটা তো আপনার প্রথম কাজ। আপনি দেশকে যদি একটা লাইনে… রেললাইনের ওপরে তুলতে চান তাহলে নির্বাচনের কোনও বিকল্প নাই।’







