ইন্টারনেট পর্যবেক্ষক সংস্থা নেটব্লকস বলেছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পুরোপুরি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। সংস্থাটি শুক্রবার ভোরের দিকে বলেছে, ব্যাপক বিক্ষোভ দমনের চেষ্টায় দেশটি ১২ ঘণ্টা ধরে অফলাইনে রয়েছে।
খামেনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত ‘‘এক হাজারের বেশি ইরানির রক্তে রঞ্জিত’’। তিনি বলেন, ইসরায়েলের জুনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিয়েছে এবং নিজেও হামলায় অংশ নিয়েছে। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করে বলেন, অহংকারী মার্কিন নেতা ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে ইরান শাসনকারী সাম্রাজ্যবাদী রাজবংশের মতোই ‘‘উৎখাত’’ হবেন।
তিনি বলেন, সবাই জানেন, শত সহস্র সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ক্ষমতায় এসেছে; নাশকতাকারীদের সামনে তারা পিছু হটবে না।
এদিকে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানি শাসনব্যবস্থা উৎখাতে অবিশ্বাস্য উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তাহলে আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করব। আমরা প্রস্তুত।’’
বিক্ষোভের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তেহরানের আয়াতুল্লাহ কাশানি বুলেভার্ডের একাংশে জনতার ব্যাপক ভিড়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে গাড়ির হর্ন বাজাতেও শোনা যায়।
এ সময় বিক্ষোভকারীদের ‘‘স্বৈরাচারের মৃত্যু’’ স্লোগান দিতে শোনা যায়। ১৯৮৯ সাল থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র শাসনকারী ৮৬ বছর বয়সী খামেনিকে উদ্দেশ করে বিক্ষোভকারীরা ওই স্লোগান দেন।
কয়েকটি ভিডিওতে কেন্দ্রীয় শহর ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রবেশপথে আগুন দিতে দেখা যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
অন্য একটি ভিডিওতে ইরানের মধ্যাঞ্চলের মারকাজি প্রদেশের রাজধানী শাজান্দে শহরে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হওয়ার পর গভর্নরের ভবনেও আগুন দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতের ওই বিক্ষোভ ২০২২-২০২৩ সালে দেশজুড়ে হওয়া আন্দোলনের পর ইরানে সবচেয়ে বড় বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কঠোর পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক মাহসা আমিনির হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় তিন বছর আগে ওই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবে উৎখাত হওয়া ইরানের শাহর ছেলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রেজা পাহলভি বৃহস্পতিবার বড় বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছিলেন। শুক্রবার রাস্তায় নতুন করে শক্তি প্রদর্শনেরও আহ্বান জানান তিনি।
শুক্রবার ভোরে নতুন এক ভিডিও বার্তায় পাহলভি বলেন, বৃহস্পতিবারের সমাবেশ দেখিয়েছে কীভাবে একটি বিশাল জনসমাগম দমনকারী শক্তিকে পিছু হটতে বাধ্য করে। তিনি শুক্রবার আরও বড় বিক্ষোভের ডাক দিয়ে বলেন, জমায়েত আরও বড় করতে হবে; যাতে শাসকের দমনক্ষমতা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।