সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন

তৃণমূল জিতলে আমাকেও ‘ব্যান’ করতেন স্বরূপ : দেব

বিনোদন ডেস্ক
আপডেট : শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬

কী-ই বা বলা যায় একজন হেরে যাওয়া ব্যক্তিকে নিয়ে? হেরে যাওয়া মানুষের সঙ্গে লড়াইয়েরই বা মানে কী? দেবের স্বভাব এমন নয়! স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির প্রসঙ্গে এখন এমনই প্রতিক্রিয়া সাংসদ-অভিনেতা দেবের। একই সঙ্গে দেব জানান, নতুন সরকারকে সবটা গুছিয়ে নিতে একটু সময় দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপরে ভরসাও রাখেন দেব।

টলিগঞ্জের ফিল্ম পাড়ায় স্বরূপের ‘দাপট’ চালানোর কথা নতুন নয়। আর তা নিয়ে দেবের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বও বহুচর্চিত। বৃহস্পতিবার রাতে তোলাবাজি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে টলিউডের সেই ‘সর্বেসর্বা’ স্বরূপকে গ্রেফতার করে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ। রাত ৯টা নাগাদ তাঁকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় নিউ আলিপুর থানায়। শুক্রবার সকালে আলিপুর আদালতে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। গ্রেফতারের পর থেকেই টালিগঞ্জের বহু শিল্পী-পরিচালক নিজেদের মতামত প্রকাশ করেছেন। কিন্তু সেই থেকেই দেবের প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষায় অনেকে। অবশেষে আনন্দবাজার ডট কমের কাছে মুখ খুললেন দেব। অভিনেতা বলেন, ‘‘গতকাল রাত থেকেই প্রচুর ফোন পেয়েছি। একটা কারণেই উত্তর দিতে চাইনি। কী বলব একজন হেরে যাওয়া মানুষকে নিয়ে! হেরে যাওয়া মানুষের সঙ্গে লড়াই করব? এখন প্রচুর কথা বলতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু কী লাভ! যে যার কর্মের ফল ভুগবে। দেবের চরিত্র এমন নয় যে, কারও খারাপ সময়ে কিছু বলবে। যখন ওঁর ভাল সময় ছিল, তিনি সকলের খারাপ সময় এনে দিয়েছিলেন।’’

তৃণমূলের নেতা অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপকে নিয়ে ভূরি ভূরি অভিযোগ এসেছে। টলিউডের এক রূপটানশিল্পীর করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর গ্রেফতারির পর থেকে আরও বহু ‘না বলা’ অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে টলিপাড়ায়। দেবের বক্তব্য, ‘‘আমার কাছেই ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ এসেছে ওঁর বিরুদ্ধে। আমাদেরও দোষ আছে অনেক। এখনও মনে আছে, আমি আর্টিস্ট ফোরামকে একটা মেল পাঠিয়েছিলাম যে, এত জন শিল্পীকে ব্যান করে রাখা হয়েছে। আর্টিস্ট ফোরামও কিন্তু তখন পদক্ষেপ করেনি। তারা কেন প্রশ্ন করল না স্বরূপ বিশ্বাসকে? আমরা যদি মাথা নিচু করি, আমাদের উপর দিয়ে তো হাঁটবেই কেউ না কেউ। যাঁরা মাথা উঁচু করে ছিলেন, তাঁদের আজ সম্মান বাড়ল। তাঁদের মুখে এখন হাসি, উল্লাস।’’

দেব মনে করান, শুধু শিল্পী নন, বহু টেকনিশিয়ানকেও ‘ব্যান’ করে রেখেছিলেন স্বরূপ। তাঁদের রুজি-রুটিও তো এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকেই আসার কথা। দেবের অভিযোগ, সমস্যায় পড়ে, ভয় পেয়ে অনেকে আত্মহত্যা করতে গিয়েছেন। দেব বলেন, ‘‘আমি অনেক টেকনিশিয়ানের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। বলেছি, ভাল দিন আসবে। তাঁদের অভিশাপও তো গায়ে লাগবে। আমি চাই না কেউ জেলে যাক। কিন্তু তিনি যা করেছেন, আজ তারই পরিণতি এটা।’’

তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে কি ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে দেবের চিন্তার বার্তা পৌঁছেছিল? দেব বলেন, ‘‘আমি নিজেই অনেক বার জানিয়েছি তাঁকে। এখন দল নির্বাচনে হেরেছে বলে আমরা সকলেই কথা বলছি। সেই সময়ে কেন প্রতিবাদ করিনি? আমাকে বলা হয়েছিল, আমার ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তী আছেন বলে নন্দনে শো দেওয়া হয়নি। আমি আবার পরের ছবিতে মিঠুন চক্রবর্তীকে নিয়েছি। আমি আমার মতো করে প্রতিবাদ করেছি। এর পর থেকে আমার প্রযোজনা সংস্থার তৈরি কোনও ছবি নন্দনে চালাইনি। অতনু রায়চৌধুরীর হাত ধরে আবার আমার ছবি নন্দনে চলে। আমি আজ এটা বিক্রি করছি না। আমাদের সকলের সেই সময়ে আরও প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। রুদ্রনীল, হিরণ তো প্রতিবাদ করে অন্য দলে চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের প্রতি আজ সম্মান বেশি মানুষের। আমার অরূপ বিশ্বাস, স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে কারণ, তাঁরা আরও ভাল ভাবে ইন্ডাস্ট্রি চালাতে পারতেন, ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি হতে পারত। তাঁরা তা করলেন না।’’

নতুন সরকারের উপরে ভরসা রাখছেন অভিনেতা। রাজ্য সরকার সবে বদলেছে। গুছিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের একটু সময় দিতে হবে। তারা ইন্ডাস্ট্রিকে বুঝছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং তা বাস্তবায়িত করার মধ্যে একটু তো সময় লাগবে, মনে করেন দেব।

ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে সাংসদ দেবের দীর্ঘ লড়াই। তা নিয়ে কী ভাবছেন তিনি? দেব বলেন, ‘‘আমার সঙ্গে নতুন সরকারের এখনও কোনও কথা হয়নি এই নিয়ে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন শুনলাম যে, ৫০ শতাংশ কেন্দ্র এবং ৫০ শতাংশ রাজ্যের টাকায় কাজ করবে। আমার বিশ্বাস, কাজ হবে। যদি আমার সঙ্গে দেখা হয়, আমি অবশ্যই তাঁকে জানাব। এই একটিমাত্র কারণে আমার রাজনীতিতে থেকে যাওয়া। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও মেদিনীপুরের মানুষ। তিনি জানেন, এটা হওয়া কতটা দরকার। শুভেন্দুদা আছেন বলে আমার বিশ্বাস, সময়েই কাজটা শেষ হবে।’’


এই বিভাগের আরো খবর