মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন

দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবে গণঅধিকার পরিষদ

নিউজ ডেস্ক :
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৫

তিনি বলেন, ‘আমরা যেই ফরমেটেই  নির্বাচনে অংশগ্রহণ করি, আমাদের প্রতীক হবে ট্রাক।’

শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, ৩০০ আসনেই আমাদের দলীয় প্রার্থী বাছাই করা আছে। সে লক্ষ্যে প্রতিটি আসনেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা কাজ করছেন। গত ২৩ মার্চ থেকে ধারাবাহিকভাবে তাদের নামের তালিকা প্রকাশের কথা ছিল। তবে কৌশলগত কারণে এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের ১০ আসনের বাইরে অন্য কোনও প্রার্থীর নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।‘৩৬ জুলাইয়ের স্পিরিট’ ধারণ করে অচিরেই প্রথম দফায় ৩৬ জনের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিকভাবে ১০ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী যারা

গণঅধিকার পরিষদের ১০টি আসনের বাছাই করা প্রার্থীই দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে রয়েছেন। এর মধ্যে দলের সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান অনেক আগে থেকেই ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ড) আসনে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

বাকি আটটি আসনের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর, রানীশংকইল) আসনে সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দফতর সমন্বয়ক শাকিল উজ্জামান, কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ, নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুজ জাহের, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) উচ্চতর পরিষদ সদস্য নূরে এরশাদ সিদ্দিকী, খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) খালিদ হাসান এবং পটুয়াখালী-১ (সদর, দুমকী ও দশমিনা) আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শহীদুল ইসলাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণঅধিকার পরিষদের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, বিগত দিনের আন্দোলনে ভূমিকা ও ত্যাগের মূল্যায়ন হিসেবে দলের সভাপতি ও ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নূর পটুয়াখালী (গলাচিপা-দশমিনা) এবং সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ড) আসনে বিএনপির সমর্থন পেতে পারেন।

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি চিঠিতে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ৬ নেতার সংসদীয় এলাকায় কর্মকাণ্ডে নেতাকর্মীদের সহযোগিতার নির্দেশনা দেয় বিএনপি। এর মধ্যে পটুয়াখালী-৩ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নূর ও ঝিনাইদহ-২ আসনে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। অবশ্য এই চিঠিই গ্রিন সিগন্যাল কিনা সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বিএনপি।

জানতে চাইলে গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,  ‘নির্বাচন তো বহু দূর। আদৌ নির্বাচন হয় কিনা সে বিষয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তারপরও আমরা আমাদের নিজস্ব আঙ্গিকে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সাথে এখন পর্যন্ত কোনও ধরনের সমঝোতা হয়নি। তবে বিগত দিনে রাজপথের আন্দোলনে থাকা দলগুলোর সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে।

তিনি মনে করেন, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের আসনে দলীয় কর্মকাণ্ডে বাধাগ্রস্ত না করতে বিএনপি নেতাকর্মীদের যে চিঠি দিয়েছে, তা গ্রিন সিগন্যাল কিনা, তা বলার সময় এখনও হয়নি। আমরা আমাদের ট্রাক প্রতীক সামনে রেখেই ৩০০ আসনে কাজ করছি।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রথমে গঠিত হয় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এই আন্দোলনের ব্যানারে ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন নুরুল হক নূর। ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর গণঅধিকার পরিষদ নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন হয়। শুরুতে এর আহ্বায়ক প্রয়াত সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া ও সদস্য সচিব হন ভিপি নুরুল হক নূর। তবে ২০২৩ সালের জুনে বিভিন্ন মতবিরোধে একে অপরকে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতি দেন রেজা-নূর। পরে রেজা কিবরিয়া একই নামে আরেকটি দল গঠন করেন। অবশ্য কয়েক মাস আগে সেখান থেকেও পদত্যাগ করেন রেজা। আর ২০২৩ সালের ১০ জুলাই মূল অংশটির কাউন্সিলে সভাপতি পদে ভিপি নূর ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন রাশেদ খান।

জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে নিবন্ধন লাভ করে গণঅধিকার পরিষদ।


এই বিভাগের আরো খবর