মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

পবা মোহনপুরের উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হবে : মিলন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবা মোহনপুর  কৃষি ভান্ডার হিসেবে খ্যাত ।   এই কৃষিকে আরো উন্নত প্রযুক্তিতে নিয়ে নিয়ে এসে ফলন বৃদ্ধি করার জন্য  কাজ করা হবে। সেইসাথে  পরিবেশ রক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে শনিবার সকালে কেশরহাট পৌর এলাকায় নির্বাচনী গণ সংযোগকালে  বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা -মোহনপুর আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী  অ্যাডভোকেট   শফিকুল হক মিলন নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন। তিনি সকালে কেশরহাট মহিলা কলেজ পাড়া থেকে গণসংযোগ শুরু করেন।
তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ব্যবহৃত নোংরা পানি ড্রেনের মাধ্যমে বারনই নদীতে পড়ে  পরিবেশ দূষণ করছে। এই পানি পরিশোধন করাই হচ্ছে তার প্রথম কাজ।  পরিবেশ রক্ষায় বারনই  নদী সংস্কার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে । সেই সাথে দখলকৃত  খাল উদ্ধার করে খনন করে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে করে  কৃষকরা সেই পানি কৃষি কাজে ব্যবহার করতে পারে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি ৩১দফা বাস্তবায়নে
কাজ করছে।  রাজশাহীতে কৃষি কলেজ স্থাপন, বেকারত্ব দূরীকরণ, মাদক মুক্ত সমাজ গড়া  ও গডফাদার এবং যারা গডফাদার তৈরি করছে তাদেরকে শায়েস্তা করা, কিশোর গ্যাং মুক্ত করা এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মিলন আরো বলেন, কৃষি পণ্য  সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ  তৈরি এবং কৃষি ইপিজেড স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, বিগত সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করণ এবং জীবন ও কর্মমুখী  শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে। শুধু তাই নয় পবা-মোহনপুরের যত রাস্তাঘাট আছে সেগুলো সংস্কার এবং নতুনভাবে তৈরি করা হবে।  দীর্ঘ ১৭ বছরের পবা মোহনপুরের  রাস্তাঘাট ও অন্যান্য অবকাঠামোর  কোন উন্নয়ন হয়নি। সেই সাথে আদিবাসী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন এবং রক্ষায় কাজ করবেন বলে জানান মিলন।
তিনি বলেন, আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন বানচাল করতে দেশদ্রোহী দল উঠে পড়ে লেগেছে। তারা স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। এখনো তারা সেই  ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। তারা নির্বাচন বানচালের  বহু চেষ্টা করছে। কিন্তু নির্বাচনের ট্রেন কোন ভাবেই থামানো সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করো তিনি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী বেহেশতের টিকিট বিক্রি করে বেড়াচ্ছে। জনগণ কোনদিন বা কোন দল কাউকে বেহেস্ত  দিতে পারে না। বেহেশ্ত  ও দোজখ একমাত্র আল্লাহই নির্ধারণ করে থাকেন । এজন্য ওই মুনাফিকদের কথায় কর্ণপাত না করে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো  বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামাতের প্রার্থীরা এখনই টাকা বিলানো শুরু করেছে। কিছু কিছু জায়গায় ধরা পড়ে তারা লাঞ্ছিত হয়েছে।  এই ধরনের মোনাফেকি দল থেকে সবাইকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। পব-মোহনপুরের  নির্বাচনের অবস্থা জানতে চাইলে মিলন আরো বলেন, তিনি যখন যে এলাকায় যাচ্ছেন সেখানেই অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন। জনগণ তাকে দেখার জন্য এবং তার সাথে কথা বলার জন্য রাস্তার ধারে বেরিয়ে  আসছেন এবং ধানের শীষে ভোট দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
মিলন বলেন,  বিএনপি ক্ষমতায় গেলে  নারীদের ক্ষমতায়ন ও পরিবারে তাদের সম্মান বৃদ্ধি করতে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে।  সেই সাথে কৃষকদের মাঝে কৃষি কার্ড  প্রধান সহ স্বাস্থ্যসেবার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। উপজেলা ভিত্তিকে যে সব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলো  আছে সেগুলোর শয্যা বৃদ্ধি করা হবে। সেই সাথে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান মিলন। এছাড়াও  খেলাধুলা কে প্রাথমিক পর্যায়ে থেকে বাধ্যতামূলক করা  সহ খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান মিলন।
মিলন বলেন, সবার রক্ত লাল। এদেশে হিন্দু বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলিমদের মধ্যে  কোন বিভেদ নাই। সবাইকে নিয়ে তিনি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পবা মোহনপুরবাসির উন্নয়ন করবেন। এই সুযোগটা করে দেওয়ার জন্য তিনি আবারও ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি যখন যে ওয়ার্ডে গেছেন সেখানে জনগণের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত মনোভাব দেখা গেছে। তারা একমাত্র ধানের শীষে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সাথে নির্বাচিত হলে কি কি করা প্রয়োজন সেগুলো জনগণ তার সামনে তুলে ধরেন। তিনি জনগণের সব কথা  শোনেন এবং পাশ করলে এ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে  করবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে এলাকাবাসী বলেন, পতিত সরকারের আমলে তাদের এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি। আর জামাত তো দেশদ্রোহী ও রাজাকার দল। এই দলকে ভোট দিলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব থাকবে না।  এজন্য তারা এই দেশদ্রোহী দলকে ভোট দেবে না বলে জানান। এ সময় প্রতিটি পারা মহল্লা  মিছিলের নগরীতে পরিণত এবং বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায় । প্রবীণ নারী পুরুষ সব মিলনের মাথায় হাত রেখে দোয়া করেন। সেই সাথে নির্বাচিত হয়ে যেন তাদের মধ্যে ফিরে এসে সেবা করতে পারেন তার জন্য দোয়া করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপির সদস্য আবু হেনা কামরুজ্জামান, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার,  কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান, কেশরহাট পৌর বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুব আলম বুলবুল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোজাদ্দেদ জামানি সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক রাসুল ইসলাম রাসেল, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক শাহিন আলম ও সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক রেজা সহ মোহনপুর উপজেলা এবং পৌর বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মীবৃন্দ ।


এই বিভাগের আরো খবর