মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তানকে লজ্জায় ডুবিয়ে সহজ জয় টাইগারদের

স্পোর্টস ডেস্ক :
আপডেট : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

শুরুতে উইকেট পতনের পর দ্বিতীয় উইকেটে ঝড়ো গতিতে খেলেছেন শান্ত ও তানজিদ হাসান। মূলত তানজিদ হাসানই ছিলেন আগ্রাসী। শান্ত তাকে সঙ্গ দিয়েছেন। তাদের জুটিতে ৬৭ বলে যোগ হয়েছে ৮২ রান। জয়ের কাছে থাকা অবস্থায় ১০৯ রানে মোহাম্মদ ওয়াসিমের শিকার হন শান্ত। তাকে রিজওয়ানের গ্লাভসবন্দি করিয়েছেন তিনি। শান্ত ৩৩ বলে আউট হন ২৭ রানে।

১১৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তৃতীয় ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শাহীন আফ্রিদির শিকার হয়েছেন ওপেনার সাইফ হাসান। ৪ রানে শামিল হুসেইনকে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। তার পর অবশ্য ঝড়ো গতিতে খেলছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান। দশ ওভারেই তারা স্কোর বোর্ডে জমা করেছেন ৮১। পঞ্চাশ রানও ছাড়িয়েছে তাদের জুটি। সবচেয়ে বেশি বিধ্বংসী ব্যাটিং করেছেন তানজিদ। ৩২ বলে পূরণ করেছেন হাফসেঞ্চুরি!

নাহিদের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ১১৪ রানে শেষ পাকিস্তান

মিরপুরে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। তার পর তো নাহিদ রানার গতি ঝড় কাঁপিয়ে দিয়েছে সফরকারীদের। তার ৫ উইকেট শিকারে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়েছে সফরকারী দল।

ওপেনিং জুটিতে সতর্ক শুরতে ৪১ রান যোগ করে পাকিস্তান। দশম ওভারে নাহিদ রানা এসেই পাকিস্তানের ইনিংসকে তাসের ঘর বানিয়েছেন। টানা পাঁচ ওভারে তুলে নেন ৫ উইকেট। তার পর আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি সফরকারী দল। মেহেদী হাসান মিরাজ আরও ৩ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করেছেন। তাসকিন ৮২ রানে নবম উইকেটটি তুলে নিলে তখন একশ রানের নিচে অলআউট হওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় তারা। সেখান থেকে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলের স্কোর একশ ছাড়িয়েছেন ফাহিম আশরাফ। তার ৪৭ বলে ৩৭ রানের ইনিংসেই পাকিস্তানের স্কোর ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রান পর্যন্ত গেছে। ফাহিমের ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছয়। তাকে শেষ পর্যন্ত তাসকিনের ক্যাচ বানান মোস্তাফিজুর রহমান।

নাহিদ ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। ২৯ রানে তিনটি নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। একটি করে নেন তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

মিরাজের তৃতীয় শিকারের পর তাসকিনের আঘাত  

৬ উইকেট হারানো পাকিস্তানকে আরও কোণঠাসা করে ছেড়েছেন মিরাজ। ২৩তম ওভারে জোড়া আঘাতে তুলে নিয়েছেন হুসেইন তালাত (৪) ও অধিনায়ক শাহীন আফ্রিদির উইকেট (৪)।

অবশ্য শুরুতে তালাতের বেলায় আম্পায়ার বাংলাদেশের এলবিডাব্লিউর আবেদনে সাড়া দেননি। রিভিউ নেওয়াতে মিলেছে সাফল্য। শাহীন আফ্রিদিও লেগ বিফোরে ৪ রানে কাটা পড়েছেন। তাতে পড়ে অষ্টম উইকেট। এটি ছিল মিরাজের তৃতীয় শিকার। পরের ওভারে উইকেট উৎসবে যোগ দেন তাসকিন আহমেদও। তার শিকার হন মোহাম্মদ ওয়াসিম। তাতে ৮২ রানের মধ্যে ৯ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

নাহিদের পঞ্চম উইকেটের পর মিরাজের আঘাত

নাহিদের গতি ঝড়ের সামনে দাঁড়াতেই পারছে না পাকিস্তান। টানা পঞ্চম ওভারে আঘাত করে তুলে নিয়েছেন পঞ্চম উইকেট। যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম। ১৮তম ওভারে নাহিদের শর্ট বলে শর্ট স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানে আউট হন সালমান। তাতে ৬৯ রানেই পঞ্চম উইকেট হারায় পাকিস্তান। ১৯তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজের আঘাতে গ্লাভসবন্দি হন আব্দুল সামাদও (০)। সফরকারী দল ষষ্ঠ উইকেট হারায় ৭০ রানে।

 নাহিদের গতি ঝড়ে বিপদে পাকিস্তান

বল শুরু করার পর থেকেই নাহিদের গতি ঝড়ে কাবু হয়ে পড়ে পাকিস্তান। তার চার ওভারেই পড়েছে উইকেট। সর্বশেষ ১৬তম ওভারে নাহিদের চতুর্থ শিকারে পরিণত হয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অভিজ্ঞ ব্যাটারকে ১০ রানে গ্লাভসবন্দি করিয়েছেন। তাতে ৬৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছে সফরকারীরা।

নাহিদের তৃতীয় শিকার সাদাকাত

নাহিদের গতিতে অস্বস্তিতে ভুগছে পাকিস্তান। ১৪তম ওভারে এসে ওপেনার সাদাকাতকেও তালুবন্দি করিয়েছেন তিনি। নাহিদের শর্ট বলে ১৮ রানে কাটা পড়েন অভিষিক্ত মাজ সাদাকাত। তাতে ৫৫ রানে পড়েছে পাকিস্তানের তৃতীয় উইকেট।

নাহিদের আঘাতে সাজঘরে ফারহান, শামিল

শুরুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে চাপে রেখেছিল বাংলাদেশ। যদিও উদ্বোধনী জুটি ভাঙতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত দশম ওভারে আক্রমণে এসেই ৪১ রানের শুরুর জুটি ভেঙেছেন নাহিদ রানা। পয়েন্টে অভিষিক্ত সাহেবজাদা ফারহানকে ২৭ রানে তালুবন্দি করিয়েছেন তিনি। পরের ওভারে আরও একটি নিতে পারতো বাংলাদেশ। মিরাজের বলে নতুন ব্যাটার শামিল হুসেইনের ক্যাচ উঠলেও তা নিতে পারেননি তানজিদ হাসান। তবে এক ওভার বিরতি দিয়ে ঠিকই শামিল হুসেইনকে তুলে নেন নাহিদ রানা। তার গতিময় বলে ক্যাচ তুলে ৪ রানে ফিরেছেন শামিল। পাকিস্তান ৪৭ রানে হারায় তাদের দ্বিতীয় উইকেট।

টস জিতে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

রাজনৈতিক টানাপোড়েনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করে তিন মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে আজ শুরু হচ্ছে ওয়ানডে সিরিজ। শুরুর ম্যাচে টসও জিতেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। মিরপুরে সফরকারী পাকিস্তানকে শুরুতে ব্যাট করতে পাঠিয়েছে তারা।

সম্প্রতি বেশ কিছু টি–টোয়েন্টি খেলার পর আবারও ওয়ানডেতে ছন্দে ফিরতে বাংলাদেশের জন্য এই সিরিজটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে র‌্যাঙ্কিংয়ের হিসেব-নিকেশ তো থাকছেই।

পাকিস্তান বাংলাদেশে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে এসেছে ২০১৫ সালের পর। সর্বশেষ সফরে তিন ম্যাচের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। গত বছর তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজও খেলে গেছে পাকিস্তান। সেই সিরিজে ২–১ ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারীরা।

একাদশে কারা 

পাকিস্তান একাদশে ৪জন খেলোয়াড়ের অভিষেক হচ্ছে আজ। দলটাতে একসাথে এতজনের অভিষেক হচ্ছে ২০০৮ সালের পর। অভিষেক হচ্ছে সাহেবজাদা ফারহান, শামিল হুসেইন, আব্দুল সামাদ ও  মাজ সাদাকাতের। দলটাতে বিশেষজ্ঞ স্পিনার শুধু আবরার আহমেদ।

বাংলাদেশ তিন পেসার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে। তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে রয়েছেন নাহিদ রানা। ব্যাটিংয়ে সৌম্য সরকারের জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন তানজিদ হাসান। মিডল অর্ডারে রয়েছেন লিটন দাস ও আফিফ হোসেন।

বাংলাদেশ একাদশ: সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান, তাওহীদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন, লিটন দাস (উইকেটকিপার), আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান।

পাকিস্তান একাদশ: সাহেবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হুসেইন, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), সালমান আগা, হুসেইন তালাত, আব্দুল সামাদ, ফাহিম আশরাফ, শাহীন আফ্রিদি (অধিনায়ক), মোহাম্মদ ওয়াসিম, আবরার আহমেদ।

পাকিস্তান ৩০.৪ ওভারে ১১৪/১০ (আবরার ০*; ফারহান ২৭, শামিল ৪, সাদাকাত ১৮, রিজওয়ান ১০, সালমান ৫, সামাদ ০, তালাত ৪, শাহীন ৪, ওয়াসিম ০, ফাহিম ৩৭)


এই বিভাগের আরো খবর