মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০১:২১ পূর্বাহ্ন

বাবা অধিক ধূমপান করলে সন্তানের ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়ে?

নিউজ ডেস্ক
আপডেট : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬

সিগারেট বা তামাকজাত দ্রব্য শরীরের কতটা ক্ষতি করে, তা আর নতুন করে বলার কথা নয়। বিষয়টা শুধু এমন নয় যে, যিনি ধূমপান করছেন, ক্ষতিটা কেবল তাঁর। সিগারেটের ধোঁয়া আশপাশের মানুষজনের জন্যও সমান ক্ষতিকর। সে কারণেই প্যাসিভ স্মোকিং-কে এতটা বিপজ্জনক বলা হয়। এই ক্ষতিটা কিন্তু সবচেয়ে বেশি হয় শিশুদের ক্ষেত্রে। সাম্প্রতিক এক গবেষণাতেও তা বলা হয়েছে। বাবা যদি অতিরিক্ত ধূমপান করেন ও সন্তানের সামনেই সিগারেট খান, তা হলে শিশুর শুধু ফুসফুসের রোগ নয়, ডায়াবিটিসের ঝুঁকিও বাড়বে।

সন্তানকে কোলে নিয়ে বা ঘরে বসে সন্তানের সামনেই সিগারেট টানলে সেই ধোঁয়া শিশুর শরীরে ঢুকে তার পরিপাকতন্ত্রের উপর বড় প্রভাব ফেলবে। সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা নিকোটিন শিশুর হরমোনের ক্ষরণেও বদল আনতে পারে। যে কারণে শৈশব থেকেই ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে শিশুর। এমনটাই বলা হয়েছে ‘জার্নাল অফ এন্ডোক্রিন সোসাইটি’-র একটি প্রতিবেদনে। গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, ছোটদের সামনে ধূমপান না করার সচেতনতা এখনও সমাজের সব স্তরে গড়ে ওঠেনি। শুধু বাড়িতে নয়, পথেঘাটে অনেকেই ধূমপান করার সময়ে খেয়ালই করেন না, কাছাকাছির মধ্যে কোনও শিশু আছে কি না।
সিগারেট টেনে সন্তানের কাছে আসাও বিপজ্জনক। গবেষণা বলছে, বাইরে থেকে ধূমপান করে এসেই শিশুকে কোলে নেন অনেকে। মনে রাখবেন, এর ফলেও শিশুর শরীরে সিগারেটের বিষ প্রবেশ করে। ধূমপানের পর জামাকাপড়ে ও ধূমপায়ীর শরীরে বিষাক্ত রাসায়ানিক থেকে যায় অন্তত ঘণ্টা চারেক। এই রাসায়নিক শিশুর শরীরেও প্রবেশ করতে পারে।

সিগারেটের ধোঁয়া হোক বা ধূমপায়ী বাবা-মায়ের থেকে আসা রাসায়নিক, শিশুর বৃদ্ধিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। আর ক্ষতি হতে পারে তাদের অপরিণত শ্বাসনালির। খেয়াল করে দেখবেন, শিশুরা খুব দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস নেয়। ফলে, জ্বলন্ত সিগারেট বা বিড়ির ধোঁয়া খুব দ্রুত টেনে নিতে পারে তারা। এই ধোঁয়া শিশুর শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখানেই জমে থাকে। ধীরে ধীরে অকেজো করে দিতে থাকে ফুসফুসকে। ফলে, ছোট থেকেই সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া বা হাঁপানির টানও উঠতে পারে শিশুর। তাই সাবধান থাকতেই হবে অভিভাবকদের। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, শিশু যেখানে রয়েছে, তার আশপাশে, বাড়ির ভিতরে, এমনকি বারান্দায় ধূমপান করাও শিশুর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।


এই বিভাগের আরো খবর