দেশ পরিচালনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের চেষ্টা আছে এবং আত্ম-জিজ্ঞাসা আছে। ব্যর্থতা উত্তরণের জন্য আমাদের প্রচণ্ড চেষ্টা আছে, তাড়না আছে। পরিস্থিতি উত্তরণে আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। রাজশাহীর পিটিআই সম্মেলন কক্ষে, দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের উপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ বিষয়ক কর্মশালায় যোগ দিতে এসে সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির হাতে হাজার হাজার কোটি টাকা আছে, টাকা থাকলে এবং বদ মতলব থাকলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নষ্ট করা সম্ভব। সে বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। আমাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করছেন এবং আমাদের কো-অর্ডিনেশন মিটিংয়েও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
চলমান বিচার পদ্ধতি নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শক্ত প্রমাণ আছে তাদের বিরুদ্ধে যেন যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আর যারা নির্দোষ তাদের যেন অযথা হয়রানি করা না হয় সে বিষয়টিও সমন্বয় করে দেখার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, নতুন বাংলাদেশে কয়েকটি ধ্বংস প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পুলিশ বাহিনী। নিয়োগ থেকে শুরু করে বাহিনীটির সর্ব ক্ষেত্রেই ভঙ্গুরতা পরিলক্ষিত। রাষ্ট্র পরিচালনায় বেশ কিছু জায়গায় ব্যর্থতা থাকলেও তা উত্তরণে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ফ্যাসিবাদের দোসররা কোটি কোটি টাকা খরচ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটনার চেষ্টা করছে। ফ্যাসিবাদ দোসরদের কিছু অংশ দেশের বাইরে পালিয়ে গেলও অধিকাংশই দেশের ভিতরে অবস্থান করছে।

এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বাহারুল আলম। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, একটি গোষ্ঠী চাচ্ছেনা দেশে স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করুক। চেষ্টা করছে যেভাবে হোক দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে। তবে বর্তমান সরকার মানবাধিকারের উপরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। অপারেশন ডেভিল হান্টে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধীরা ধরা পড়ছেন বলেন পুলিশের আইজিপি।
কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশর অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর চীফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার সহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।