ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের সামভাল জেলায় একটি মুঘল আমলের মসজিদে জরিপ চালানো কেন্দ্র করে ব্যাপক সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে ৩ মুসলিম নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন পুলিশ সদস্য। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মসজিদটি যেখানে তৈরি করা হয়েছে সেখানে আগে মন্দির ছিল এমন দাবি করে আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন হিন্দুত্ববাদী কয়েজকন ব্যক্তি। এরপর আদালত তার পিটিশনের ভিত্তিতে সেখানে জরিপ চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সূত্র: এনডিটিভি
পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মসজিদটিতে জরিপদল কাজ শুরু। পরে একদল জনতা জরিপে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে, আর তাতেই ঘটনা রূপ নেয় সহিংসতায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই হাজার খানেক লোক ঘটনাস্থলে জড় হয়।
সামভাল জেলার পুলিশ সুপার কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ব্যাপক শক্তি প্রয়োগ করে। এতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। যারা এই সহিংসতায় যুক্ত, তাদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাজেন্দ্র পেসিয়া জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অন্তত ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওতে মসজিদের কাছে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরানোর দৃশ্য দেখা গেছে। তারপরও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী জরিপ চালানো হয়েছে।
এই ঘটনা উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেছেন, বিজেপি সরকার ইচ্ছা করে এই অশান্তি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, সামভালে গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। জরিপ দলকে সকালে পাঠিয়ে আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে বিতর্ক এড়ানো।
স্থানীয় রাজনীতিবিদরা বলেছেন, নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে উত্তেজনা তৈরি করেছে। তারা মূলত সেখানে রাজনৈতিক ফায়দা আদায় করে নিতে এই কাজ করেছে। কারণ গত মঙ্গলবারও সেখানে একবার জরিপ চালানো হয়েছিল। আজ রোববার সকালে কেন আবার সেখানে জরিপকারীরা গেল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
এদিকে, জরিপের পক্ষে সমর্থকেরা এটিকে ঐতিহাসিক সত্য উদ্ঘাটনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, এটি ১৯৯১ সালের উপাসনালয় আইনের বিরোধিতা ও ধর্মীয় স্থানের পবিত্রতা লঙ্ঘন।