মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে বর্তমানে বয়কটের সম্মুখীন কোমল পানীয় দুই কোম্পানি ‘কোক-পেপসি’। গাজা যুদ্ধের কারণে স্থানীয় কোমল পানীয়গুলোর কাছে ব্যবসা হারাচ্ছে এই দুই কোম্পানি। এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশর থেকে পাকিস্তানসহ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। মিসরে চলতি বছর তাদের লোকাল কোমল পানীয় ব্র্যান্ড ভিসেভেন মধ্যপ্রাচ্য এবং আরও কিছু অঞ্চলে গত বছরের তুলনায় তিনগুণ বেশি ব্যবসা করেছে। যেখানে ব্যবসা কমে গেছে কোকা কোলার।
কোকা-কোলা এইচবিসি এর তথ্য অনুসারে, গত ২৮ জুন শেষ হওয়া ছয় মাসের হিসাবে মিসরে কোকের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অথচ গত বছরের এই সময়ের হিসাবে বিক্রি বেড়েছিল। অন্যদিকে, পাকিস্তানে ও কোম্পানি দুটি’র একই অবস্থা। বিয়ের বাড়ি থেকে শুরু করে সব অনুষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় কোমল পানীয়।
পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় ডেলিভারি অ্যাপ ক্রেভ মার্টের প্রতিষ্ঠাতা কাসিম শ্রফ বার্তা রয়টার্সকে জানান, দেশটিতে কোলা নেক্সট এবং পাকোলার মতো স্থানীয় কোমল পানীয়র বিক্রি ১২ শতাংশের মতো বেড়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে গত বছরের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পেপসির ব্যবসাতেও ধস নেমেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
কোকাকোলা থেকে আয়কৃত অর্থ গাজা যুদ্ধে ব্যবহার করা হয় না- এমন বিজ্ঞাপন বানিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্রভাব পড়ে বাজারেও। বিপরীতে যেন মাঠ ফাঁকা পেয়ে যায় দেশীয় কোমল পানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। কোক ও পেপসি বয়কটের পর থেকে স্থানীয় মোজোর বিক্রি বাড়ে কয়েক গুণ।
সব মিলিয়ে কোক-পেপসি কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে তার হিসাব করা কঠিন বলে মনে করেন বাজার বিশ্লেষকরা। কেননা, এখনও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে বেশ ভালোই ব্যবসা করছে এই দুই প্রতিষ্ঠান।
তবে মার্কেট রিসার্চার নিলসেন আইকিউ বলেছে, ওই অঞ্চলে সার্বিকভাবে পশ্চিমা পানীয় ব্র্যান্ডগুলোর ব্যবসা বছরের প্রথমার্ধে ৭ শতাংশ কমেছে। বার্তা সংস্থার রয়টার্স জানায়, গাজায় হামলার পরের ছয় মাসে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ায় পেপসির বিক্রি তেমন একটা বাড়েনি। ২৮ জুন শেষ হওয়া ছয় মাসের হিসাবে মিশরে কোকের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
অথচ পাকিস্তান, মিশরের মতো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোয় নিজেদের পানীয়ের চাহিদা তৈরি করতে গেল কয়েক দশক ধরে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে কোক ও পেপসি।