রাকসু কার্যালয়ে দিনভর উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি আহত ১
নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট :
রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫
Share
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনভর উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি, কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে তালা দেয়া ও কালা ভাঙ্গা নিয়ে দিনভর উত্তেজনার মধ্যে শেষ হয় রাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের সময়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার করার দাবি নিয়ে ছাত্রদল ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের চরম উত্তেজনার বিরাজ করে। এই নিয়ে পাল্টা পাল্ট সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডিউল চার দফা কাটা ছেড়ার পর আজ ৩১ আগস্ট রাকসু নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন ছিল। তবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অর্ন্তভুক্ত করার দাবিতে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে সকালে রাকসু কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়নপত্র ও টেবিল চেয়ার তছনছ করে গেটে তালা দিয়ে অবস্থান নেয় ছাত্রদল। পরিস্থিতি জটিল হয় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সহ অন্যরা মনোনয়নপত্র তুলতে এলে। ছাত্রদলের বাধায় মনোনয়নপত্র তুলতে না পেরে কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের গেটে অবস্থান নেন তারা। দফায় দফায় উত্তেজনার পর দুপুরে ভেঙ্গে ফেলা হয় ছাত্রদলের লাগানো তলা। ফলে চার ঘন্টা বন্ধ থাকার পর রোববার দুপুর ২টা থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণের কাজ শুরু হয় আবার।
ক্যাম্পাসে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠক করেছে রাকসু নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার করার বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ঘোষিত সিডিউল অনুযায়ি রাকসু নির্বাচনের অবশিষ্ট কার্যক্রম শেষ করে আগামি ২৫ সেপ্টেম্বর রাকসু নির্বাচনের সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছে কমিশন।
এদিকে উদ্ভূদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আজ সন্ধ্যা ৭টায় আমি ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকে বসেন কমিশনাররা। এখানে সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২৫ শে সেপ্টেম্বরই নির্বাচন করার মতামত দেন তারা। তবে বৈঠকে জানি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বৈঠক চলাকালে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের একটি অংশ বৈঠক বয়কট করে সিনেট ভবন ত্যাগ করে।
বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার মোস্তফা কামাল আকন্দ জানান, শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরই রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মনোনয়নপত্র উত্তোলনের শেষ দিনে আজ ভিপি পদে ১৮, জিএস ১২পদে, এজিএস পদে ১৩ জন সহ অন্যান্য পদে মোট ৩৮৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভোটার তালিকায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রাকসু কার্যালয় তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনোনয়ন তুলতে আসলে বাঁধা দেন তারা। এতে কার্যালয়ের সামনে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ও ছাত্রদল। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে একজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
রোববার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ে সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার মনোনয়ন তুলতে আসেন। এসময় মুখোমুখি অবস্থান করতে নিতে দেখা গেছে তাদের। পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতেও দেখা গেছে।আহত শিক্ষার্থীর নাম রাকিবুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী।
এ সময় সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, আমরা মনোনয়ন তুলব কিন্তু ছাত্রদলের নেতাকর্মী আমাদের বাধা দিয়েছে। ছাত্রদল কোনোভাবেই চায় না রাকসু হোক। যার জন্য তারা তালা দিয়ে আন্দোলন শুরু করেছে।
এসময় আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিবুল বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন তুলতে এসেছিলাম। কিন্তু ছাত্রদল আমাদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। যখন আমরা গেটে অবস্থান করি তারা আমাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয়। ধাক্কাধাক্কিতে আমি আহত হয়েছি। এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাকসু কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে রাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
রাকসু নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা, আহত তিন শিক্ষার্থী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভোটার তালিকায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রাকসু কার্যালয় তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা মনোনয়ন তুলতে আসলে বাঁধা দেন তারা। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে তিনজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের রাবি মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- আরবি বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সাবেক সমন্বয়ক মাহইর, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের আরিফ আলভি ও রাকিবুল ইসলাম।
এর আগে, সকাল ৯টায় অবস্থান করেন রাবি ছাত্রদলের শিক্ষার্থীরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাকসু কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে রাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ভোটার তালিকায় প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রাকসু কার্যালয় তালা দেয় রাবি শাখা ছাত্রদল।রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এ সময় দেখা যায়, একপাশে অবস্থান নিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অন্যদিকে কার্যালয়ের গেটসহ অন্যপাশে অবস্থান নিয়ে আছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অবস্থান নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ‘আদু ভাই, আদু ভাই’, ‘শিক্ষা-সন্ত্রাস এক সঙ্গে চলে না’, ‘রাজাকার- স্বৈরাচার মিলে মিশে একাকার’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
এদিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বহিরাগতদের নিয়ে আন্দোলন করতে দেখা গেছে।এর আগে ধাক্কাধাক্কিতে সাবেক সমন্বয়কসহ তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। অন্যদিকে সকাল ৯টায় কার্যালয়ে অবস্থান নেন রাবি ছাত্রদলের শিক্ষার্থীরা। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাকসু কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে রাবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
ফের রাকসুর মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু
ছাত্রদলের দেওয়া তালা ভেঙে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঢুকে পড়ার পর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফলে ফের মনোনয়নপত্র বিতরণের কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে মনোনয়নপত্র নিতে ভিড় জমিয়েছেন ছাত্রশিবিরের প্যানেল, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাবেক সমন্বয়করা। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে নতুন করে আবার মনোনয়ন তোলা শুরু হয়।
এ সময় রাকসুর কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সেতাউর রহমান বলেন, মনোনয়নপত্র বিতরণের কাজ ফের শুরু হয়েছে। যারা মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করতে আগ্রহী তাদেরকে আজই মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মেহেদী সজীব বলেন, আমরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে এলে সেখানে ছাত্রদলের কর্মসূচি দেখতে পারি। তাদেরকে প্রতিরোধ করে তালা ভেঙে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি। এখানে আমরা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা দেখতে পেয়েছি যা একটি স্বাধীন নির্বাচন পরিচালনা করার জন্য উদ্বেগজনক।
আরেক সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ শেষে বলেন, ছাত্রদল যাদের ভোটার তালিকা অন্তর্ভুক্ত করার দাবি নিয়ে এসেছে তাদের তো এখনও হল সংযুক্ত, আইডি কার্ড কোনো কিছুই হয়নি। এটাকে সামনে রেখে তারা রাকসু বানচালের ছক কষছিল আমরা তা প্রতিহত করে সঠিক সময়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।
এর আগে সকাল ৯টা থেকে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রাকসুর কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা দেয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও সমন্বয়কদের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের ফলে তৈরি হয় উত্তপ্ত পরিস্থিতি। বর্তমানে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের একপাশে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।