রাজশাহী বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুলের হত্যাকারীর ইন্ধনদাতা হিসেবে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও রাজশাহী ৩ আসনের সাংসদ আসাদুজ্জামান আসাদকে দায়ি করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি। তিনি বলেন এই খুনের সাথে দুজন স্বশরীরে ছিল। পেছন থেকে মমদ দাতা হিসেবে আসাদুজ্জামান আসাদ, মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন ও লায়েব উদ্দিন লাভলু নামে মামলা করা হবে।
আজ সকালে বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বাবুলের নামাজে জানাজার আগে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারা। শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহের আগে অভিযুক্ত যাদের নাম বললাম তাদের সাথে আসামীদের মোবাইলের কল লিস্ট মেলান। যদি দিনে ৪/৫ বার কথা না হয় তাহলে আমি সংসদ সদস্য পদ ছেড়ে চলে যাবে। তিনি বলেন, খুনি আক্কাস ও খুনি মেরাজ এদের পেছনে মদদ দাতা আছে। দুই বছর আগে তাদের বহিস্কার করেছিল কেন্দ্রীয় নেতা কামাল হোসেন। কিন্তু অত্যান্ত দু:খের বিষয় এবং হতাশাগ্রস্থ। এই ঘোষনার ৭দিনের মাথায় তাদের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের গাড়ীতে ঘুরতে দেখা গেছে। তিনি বলেন আমরা জবাব চাই খায়রুজ্জামন লিটনের কাছে, তিনি আজ জানাজায় উপস্থিত নেই কেন ?।
এদিকে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বক্তব্যেও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেছেন এই ঘটনার সাথে জড়িত হওয়ার তার কোন সুযোগ এবং কারণ নেই। এমপি শাহরিয়ার আলম উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে তার ও আসাদের নাম জড়ানোর চেষ্টা করছে। কেন করছে সেটা তিনিই বলতে পারবেন। তিনি বলেন জামাজে জানাজার মতো একটি পবিত্র জায়গায় এভাবে কথা বলা খুবই দু:খজনক। এর আগে আমি এরকম কথা কখনো শুনি নি। জামাজে জানাজায় মৃত ব্যক্তির রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করার কথা সেখানে এই ধরনের কথা দু:খজনক। আমি অত্যান্ত দু:খিত। আমি এধরনের কথা কখনো আশায় করিনি। তিনি বলেন, আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি এই ঘটনা অত্যান্ত নিন্দনীয় কষ্টকর আমরা একজন দলীয় নেতাকে হারালাম। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার আমিও চাই। তিনি বলেন মনে হচ্ছে এই লাশটি দরকার ছিল। যাতে করে রাজনীনৈতিক ভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা যায়। এই রকম চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র একটি গোষ্ঠির মধ্যে ছিল এবং আছে মনে হচ্ছে। এই লাইনেও তদন্ত করে দেখা দরকার। তিনি নিহিতর পরিবারের পাশে থাকবেন বলে জানান।
আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত ২২ জুন মেয়র আক্কাস আলী ও উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলুর অনুসারীর সাথে স্থানীয় সাংসদ ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ইট পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র, ককটেল ও আগ্নিয়অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। পুলিশ আধাঘন্টা ধরে রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তঃত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল কে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এঘটনায় নিহতর স্ত্রী বাদী হয়ে বাঘা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজ সহ ৭জনকে গ্রেফতার করে।