রাজশাহীতে কুলু-লেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং আসামি মাসুম আলীকে গ্রেফতার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। রোববার নগরীর দামকুড়া থানার কাদিপুর গ্রামে নিজ বাড়ী থেকে মাসুম আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তার পিতার নাম আব্দুস সালাম। নিহত সাজামুল ও আসামি মাসুম আলী পাশাপাশি গ্রামের এবং পূর্ব পরিচিত। মাসুম পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে ঘটনার বেশ কিছু আগ্ থেকেই পরিকল্পনা করে সাজামুলকে হত্যা করার।

রোববার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ কমিশনার আবু সুফিয়ান সাংবাদিকদের জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে দামকুড়া থানাধীন কাদিপুর ল পাড়া গ্রামের জনৈক বেলুমিয়ার আমবাগানে ভাড়াটে অটোরিকশা চালক সাজামুল এর মাথায় ও পিঠে আঘাতপ্রাপ্ত লাশ পাওয়া যায়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (মেম্বার) এই বিষয়টি থানা পুলিশকে অবগত করলে দামকুড়া থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল করে ময়না তদন্ত করায়। পরে ভিকটিম সাজামুলের স্ত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি বা আসামিদের বিরুদ্ধে ৩৯৪/৩০২ দন্ডবিধি ধারায় মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে তদন্তকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় সন্দেহভাজন আসামি মাসুম আলীকে আটক করে। মাসুম আলী অটোরিক্সা বিক্রয় করার জন্য তার আইডিকার্ড ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজ নেওয়ার জন্য বাড়িতে এসেছিলো। মাসুম আলীকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, অটো রিক্সার লোভে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে সাজামুলের রিক্সায় পেছনে বসে লোহার পাইপ দিয়ে সাজামুলের মাথা ও পিঠে উপুর্যুপুরি আঘাত করে হত্যা। পরে লাশ ঘটনা স্থলে ফেলে রাখে। ওই রাতে ছিনতাইকৃত অটো রিকশাটি নিয়ে সে পাবনার দিকে রওনা হয় এবং পথে চন্দ্রিমা থানাধীন বিহাস এর সামনে মোহনপুর ব্রিজ থেকে পাইপটি ফেলে দেয় এবং পাবনায় গিয়ে ভ্যানটি তার পূর্ব পরিচিত সদর থানাধীন মালজি এলাকার জনৈক আব্দুর রশিদের কাছে নিজের বলে ৮০ হাজার টাকা দাম ধরে বিক্রি করে। এসময় ক্রেতা তাকে ৩০ হাজার টাকা দেয় এবং বাকি টাকা গাড়ির কাগজপত্র, ভোটার আইডি কার্ড ও বিদ্যুৎ বিল এর ফটোকপি দিয়ে নিতে বলে। মাসুম আলীকে আটকের পর তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাবনায় স্টেশন রোডের লস্করপুরে একটি অটো রিপোয়ারিং গ্যারাজ থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রেস ব্রিফিং শেষে চন্দ্রিমা থানার মাধ্যমে আসামি মাসুম আলীকে জেলহাজাতে প্রেরণ করা হয়।