রাজশাহীর প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. গোলাম কাজেম আলী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শিক্ষক লাউঞ্জে বৈষম্য বিরোধী চিকিৎসক ফোরাম-এর আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ডা. গোলাম কাজেম আলীর মৃত্যুর দুই বছর পূর্তিতে আয়োজিত এই সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত এবং বিগত সরকারের মদদে সংঘটিত।” তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলন তার সহকর্মীরা বলেন, ডা. কাজেম ছিলেন বিনয়ী ও মানবিক চিকিৎসক, তার কারও সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর রাতে পপুলার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে বর্ণালী মোড়ে ওঁত পেতে থাকা খুনিরা মাইক্রোবাসের ধাক্কা দেওয়ার পর ডা. কাজেমের বুকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ডাক্তার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, ডাক্তার কাজিমকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। এটা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। নির্বাচনের আগে এটি টার্গেট কিলিং। এই টার্গেট কিলিংয়ে আরো অনেক ডাক্তার ছিল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ড্যাব সভিাপতি ডাক্তার ওয়াসিম হোসেন, ডাক্তার জাহাঙ্গীর, ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলন শেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “তৎকালীন সরকার নির্বাচনের ঠিক আগে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ভয় দেখাতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এর বিচার হয়নি।” বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত বিচার না হলে চিকিৎসক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে, প্রয়োজনে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখার ঘোষণাও আসতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে পেশাগত কাজ শেষে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে নগরীর বর্ণালী মোড়ে দুর্বৃত্তরা ডা. গোলাম কাজেম আলীর পথরোধ করে মাইক্রোবাস থেকে নেমে বুকে ছুরিকাঘাত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী ডা. ফারহানা ইয়াসমিন সোমা রাজপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল খুনি মোস্তফা ও তার সহযোগীরা পলাতক। তারা দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।