খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা উদযাপন করছে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন।এ দিন সকাল ৭টায় ও ৯টায় শীত মাঝে এলো বড় দিন, এলো বুঝি ঐ ফিরে গানের সুরে সুরে রাজশাহীর উত্তম মেষ পালক ক্যাথিড্রাল গির্জায় বড়দিন উপলক্ষে বিশেষ খ্রীষ্টযাগ হয়। গির্জা থেকে খ্রীষ্টান পল্লীগুলো সব খানেই ছড়িয়েছে এই উৎসবের রং। বুধবার সকালে রাজশাহীর বাগান পাড়াসহ গির্জায় গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা দিয়ে দিনের শুরু হয়। কোন কোন গির্জায় দুই দফায় প্রার্থনা হয়েছে । এছাড়াও মোমবাতি জ্বালিয়ে বাইবেলের বাণী, ধর্মীয় গান হয় গির্জায়। বড়দিন উপলক্ষ্যে গির্জাগুলো সাজানো হয়েছে রঙিন বাতিতে। গির্জার প্রবেশমুখ থেকে নানান রঙের আল্পনা করা হয়েছে। সুসজ্জিত ক্রিসমাস ট্রিও আলোকসজ্জা করা হয়েছে। যিশুর জন্মের চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে কৃত্রিম গোশালায়।
এদিকে, দিনভর নানা আয়োজন করেছেন যিশুভক্তরা। দিনের প্রথম প্রার্থনা শেষে খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীরা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বড় দিনের কেক কেটে বাড়িতে বাড়িতে চলছে নানা উৎসব আয়োজন।
ভিকার জেনারেল ফাদার ফবিয়ান মারান্ডি জানান বড়দিন মানেই অনাবিল শান্তি, বড়দিন মানে সকলকে নিয়ে বড় হবো। যেখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। আমাদের কথা কাজ ও আচরণে যেন তার সব কিছু প্রকাশ পায় । শেলী বিশ্বাস জানান গির্জায় এসে খুবই আনন্দিত ও পরিবার নিয়ে একসাথে এবারের বড়দিনের যে তাৎপর্য সেটি পালন করতে পারছে বলে । খ্রীষ্টভক্ত প্রশান্ত মিনজ বলেন, আমার কাছে বড়দিন মনে প্রেম, ভালোবাসা, শান্তি ও সম্প্রীতি। একই বাড়ে গেট টুগেদারের মত। কারন সারা বছর নানা কাজে বাইরে থাকি। তবে বড়দিন আসলে আমরা নিজ বাসায় আসি ও এই সময় বন্ধ বান্ধবী, আত্মীয়স্বজন সকলে একজায়গায় পাই। সত্যি এটি আনন্দের একটি বিষয়।
এদিকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী ও ধর্ম গুরারা রাজশাহীস্থ ভারতীয় হাই কমিশনার মনোজ কুমারকে সাথে নিয়ে বড়দিনের কেট কাটেন। এসময় খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাজশাহীর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জানান, দিনটি উদযাপনের লক্ষ্যে গির্জা গুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বড়দিন উদযাপনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বেশকিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়েই সবাই আনন্দঘন পরিবেশে বড়দিন উদযাপন করেছেন।
খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের আশা মানুষের মাঝে ভেদাভেদ কমে শান্তির বারতা নিয়ে উদযাপিত হচ্ছে এবারের বড়দিন। মানবতার কল্যাণে যিশু খ্রিস্টের শান্তির বাণী ছড়িয়ে যাবে মানুষে মানুষে।