রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডি এম জিয়াউর রহমান জিয়ার কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে বাগমারা থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাগমারা থানা আমলি আদালতে এই মামলা করা হয়। আফজাল হোসেন নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মামলাটি করেন।
আসামিরা হলেন- বাগমারা গ্রামের আসাদুল ইসলাম (৪৮), রুহুল আমিন সনি (৪০), লাল মোহাম্মদ লাল্টু (৩২), রানা আহমেদ (৩০), সাব্বির আহমেদ (২৫), সেলিম হোসেন (৩৫) ও মেহেদী হাসান রকিসহ (২৫) কয়েকজন। এর মধ্যে রুহুল আমিন সনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা বিভিন্ন সময় আফজাল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। গত ২৬ নভেম্বর দুপুরে আসামিরা বাদীর খড়ের আড়তে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাজির হন। তারপর আফজালকে বলেন, এখানে ব্যবসা করতে হলে তাদের ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আফজাল চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে রহিুল আমিন সনি ধারালো চাকু বের করে আফজালকে তাড়া করেন। এ সময় অন্য আসামিরা বাদীকে ঘিরে ধরেন এবং এলোপাতাড়ি কিলঘুসি-লাথি মারতে থাকেন। আসামি লাল্টু তার হাতে থাকা লোহার রড় দিয়ে বাদীকে বেধড়ক মারধর করেন। অন্যরাও মারধর করে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যান।
যাওয়ার সময় আসামিরা বলে যান, পুরো ৫ লাখ টাকা না দিলে এবার এসে জানে মেরে ফেলা হবে। তারা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে তিনি থানায় মামলা করতে যান। তবে পুলিশ মামলা গ্রহণ না করে আদালতে মামলার করার পরামর্শ দেন।
বাদীর আইনজীবী শারমিন কানিজ জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। এরপর মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী ধার্য তারিখে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বাগমারা থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, সাবেক সেনাসদস্য আদালতে একটি মামলা করেছেন বলে শুনেছি। তবে আদালতের আদেশের কপি এখনও থানায় পৌঁছেনি। আদেশের অনুলিপি পেলে সেই অনুযায়ী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।