তবে চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুকুরের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রজনন মৌসুম নেই। যদিও নির্দিষ্ট কোনো ঋতু নেই, তবু অনেক জায়গায় ভাদ্র ও আশ্বিন মাসকে (আগস্ট-অক্টোবর) কুকুরের প্রজননের জন্য বেশি সক্রিয় সময় হিসেবে ধরা হয়। বর্তমানে অনেক কুকুর বাচ্চা প্রসব করেছে। এ কারণে বাচ্চাদের রক্ষায় তারা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। ফলে বিভিন্ন সময়ে কুকুর তেড়ে এসে মানুষকে কামড় দিচ্ছে। এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। তাই সরকারিভাবে দ্রুত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন সরবরাহ করা জরুরি।
রামেক হাসপাতালকে কেন্দ্র করে নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ওষুধের ফার্মেসি। বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে খোঁজ করেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। তবে ঔশী ফার্মেসির এক বিক্রেতা বলেন, শুনেছি হাসপাতালেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই। দোকানগুলোতেও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিন অনেক রোগী এসে ভ্যাকসিন খুঁজছেন।
দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভ্যাকসিনের এক ভায়ালের দাম ৪০০ টাকা। তবে সেটিও এখন পাওয়া যাচ্ছে না। তাই দামের বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না। আমরা কোম্পানিতে জানাচ্ছি, কিন্তু সেখান থেকেও সরবরাহ আসছে না।
নগরীর কুখুন্ডি বুধপাড়া এলাকার বাসিন্দা কুদ্দুস আলীর মেয়েকে দুই সপ্তাহ আগে কুকুরে কামড় দেয়। তিনি হাসপাতাল থেকে দুই ডোজ ভ্যাকসিন পেয়েছেন। বাইরে থেকে তিনি এক ডোজ নিয়েছেন। তিনি বলেন, আরেক ডোজ দেওয়ার তারিখ রয়েছে শনিবার। কিন্তু শুনছি জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নাকি পাওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখা যাক কী করা যায়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) কুকুরের কামড়ে আহত হন আলী হোসেন (১৮)। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তিনি রামেক হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে আসেন। কিন্তু বিনামূল্যে ভ্যাকসিন না পেয়ে বাইরে ফার্মেসিতে খোঁজ করেন। সেখানেও তিনি ভ্যাকসিন পাননি।
আলী হোসেন বলেন, হাসপাতালে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। কিন্তু এসে শুনলাম সরবরাহ নেই। কাছে টাকা ছিল না, বাড়িতে ফোন দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আনালাম। কিন্তু ফার্মেসিতেও ভ্যাকসিন কিনতে পাওয়া গেল না।
এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। রোগ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। কিছু সময় চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, আবার কিছু সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি। গত তিন সপ্তাহ, অর্থাৎ ২১ দিন ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের সরবরাহ নেই। প্রতিদিন হাসপাতালের চাহিদা ২৭০ থেকে ২৮০টি ভ্যাকসিন।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাফরুল হোসেন বলেন, শুধু রাজশাহী নয়, সারা দেশেই একই অবস্থা। বিষয়টি আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি।