গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ এবং ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বা সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
অন্যদিকে, রাজশাহী-১ ও রাজশাহী-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হয়েছে। এই দলের বাকি ছয় প্রার্থী হারলেও তাদের জামানতের ভোটের পরিমাণ বেশি আছে। ফলে তারা জামানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেন।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের মোট ৫ প্রার্থীর মধ্যে তিন জনই জামানত হারাচ্ছেন। তারা হলেন- গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক মার্কার প্রার্থী (৪০৭ ভোট) মির মো. শাহজাহান, এবি পার্টির ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান (১১০০ ভোট), মোবাইল ফোন প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আল-সাআদ (৬৬৩ ভোট)।
এছাড়া রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামানত হারিয়েছেন- এবি পার্টির মু. সাঈদ নোমান (৭৮৬ ভোট), নাগরিক ঐক্যের কেটলি প্রতীকের মোহাম্মদ সামছুল আলম (৫৫২ ভোট), বাংলাদেশ লেবার পার্টির আনারস প্রতীকের মো. মেজবাউল ইসলাম (৩৮৭ ভোট)।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে রজশাহীর একমাত্র নারী প্রার্থীসহ চারজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা. হাবিবা বেগম (১১৭৭ ভোট), জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের মো. আফজাল হোসেন (২৩৯০ ভোট), ইসলামী আন্দোল বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. ফজলুর রহমান (১১৫৪ ভোট) এবং আমজনতার পার্টির প্রজাপতি প্রতীকের প্রার্থী মো. সাইদ পরভেজ (২৯৫ ভোট)।
এছাড়া রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জামানত হারিয়েছেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. তাজুল ইসলাম খান (৬৭০ ভোট), জাতীয় পার্টির মো. ফজলুল হক (১৭৫৯ ভোট)।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিএনপির দুই ‘বিদ্রোহী’সহ পাঁচজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের মো. ইসফা খায়রুল হক (২৪৯৬ ভোট), ফুটবল প্রতীকের রেজাউল করিম (৬৪৩২ ভোট), বিএসপির একতারা প্রতীকের মো. আলতাফ হোসেন মোল্লা (৯৩৮ ভোট), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন (৬২০ ভোট), মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রায়হান কাওসার (৪৪২ ভোট)।
এছাড়া রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে জামানত হারিয়েছেন- দুই জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. ইকবাল হোসেন (২৯৩০ ভোট) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুস সালাম সুরুজ (১৬২৮ ভোট)।