মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন

সংঘাতের দিকেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইসরায়েল সরকার মনে করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান বর্তমানে একটি অচল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। গত বছরের জুনে দুই দেশ মিলে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় যে হামলা চালিয়েছিল, এবার আক্রমণ হলে তা হবে এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা।

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে অনড় থাকা ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, হয় পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করতে হবে, নয়তো ‘খুব খারাপ কিছু’ ঘটবে। ট্রাম্প হামলার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিনের একটি প্রচ্ছন্ন সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। জবাবে ইরান জানিয়েছে, আক্রান্ত হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানবে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, হামলা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল করে দেবে এবং এরপর রেভল্যুশনারি গার্ডসের নৌবাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করবে। এই বাহিনীই হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকি দিয়ে থাকে, যা বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের পথ।

তবে ইউরোপীয় এবং আরব দেশগুলো ট্রাম্পের ‘শেষ লক্ষ্য’ নিয়ে সন্দিহান। তারা জানতে চায়, এই হামলার উদ্দেশ্য কি কেবল ইরানের ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া, নাকি সরাসরি ‘শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন’। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির নেতৃত্বাধীন বর্তমান ব্যবস্থায় সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ইরানের পক্ষ থেকে কিছু নমনীয়তার আভাস পাওয়া গেছে। খামেনির উপদেষ্টা আলি লারিজানি জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) ব্যাপক তদারকির সুযোগ দিতে প্রস্তুত। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নকে সার্বভৌম অধিকার মনে করেন খামেনি। ফলে বড় কোনও ছাড় দেওয়ার বিষয়টি তার সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

এদিকে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে।


এই বিভাগের আরো খবর